শিরোনাম
গোয়াইনঘাটের ২ নং পশ্চিম জাফলং বিট অফিসারকে ম্যানেজ করে শ্যাম কালার বেপরোয়া চোরাচালান! বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী প্রচার মঞ্চে–সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী।  জাফলং সীমান্ত দিয়ে নারী পাচারের চেষ্টা: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, মূলহোতা আটক নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’—ওসি হান্নানের নেতৃত্বে অভিযানে ইয়াবা সহ ভ্যানচালক আটক কুলাউড়ায় সাংবাদিক ভবন নির্মাণ করতে চান .. সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু  সিলেট অঞ্চলে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন — সিসিক প্রশাসক  সিলেটে কে সেই সম্রাট চোরাকারবারি সিন্ডিকেট অবৈধ ব্যবসায়ী জনি শ্রীমঙ্গলে অপহরণের পর সাক্ষীর লাশ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগ পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দেবাশীষ কুমারের বাড়িতে ও কার্যালয়ে আয়-কর হানা।
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুল মনোনয়ন না পাওয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক কর্মীর মৃত্যু,আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৯১ Time View
Update : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫

28

সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুল মনোনয়ন না পাওয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক কর্মীর মৃত্যু,আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি

 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জ-১(তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পাওয়াতে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার আবেগঘন ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিএনপির এক কর্মী এবং আরেককর্মী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

শুক্রবার বিকেলে তাহিরপুরবাজারে ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিধারক ঘটনাটি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত সবচেয়ে জনপ্রিয় তরুণ নেতা কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় তার প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং তাকে মনোনয়ন দানের দাবিতে হাজার হাজার নেতাকমীর্রা বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে এসে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মধ্য-তাহিরপুর গ্রামের শুলতু মিয়া(৫৫) এবং একই উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বিএনপির আরেক কর্মী মোদাচ্ছির আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মোদাচ্ছির এখন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উল্লেখ্য কামরুজ্জামান কামরুলকে প্রতিটি সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভালোবেসে টাকার মালা, ব্যাংকের চেক উপহার দেন। নারীরাও জমানো টাকা, সোনা গয়না বিক্রি করে তাকে সমাবেশে উপহার দেন।

উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে দলের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থীও নাম ঘোষণা করে বিএনপি। সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুলের বদলে উপজেলা নির্বাচনে কামরুলের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত আনিসুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এই খবরে ওইদিনই অসুস্থ হয়ে পড়েন কামরুজ্জামান কামরুলের রাজনৈতিক ভক্ত ও বিএনপি কর্মী উজান তাহিরপুর গ্রামের শুলতু মিয়া (৫৫)। শুক্রবার কামরুজ্জামান কামরুল বিপ্লব ও সংহতিি দবসে আসবেন এই খবর পেয়ে তিনি অসুস্থ শরীরেও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাহিরপুর উপজেলা সদরে আসনে। কামরুল যখন আবেগঘন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন আবার মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে নিচে পড়ে যান তিনি। দলীয় কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে একই সময়ে বিএনপিকর্মী মোদাচ্ছির আলমও কামরুলের আবেগঘন বক্তব্য শুনে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তিনিও হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কামরুজ্জামান কামরুল তাকে তৎিক্ষনিক সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর পর তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে তার চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শুলতু মিয়ার ছেলে ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম নবাব বলেন, আমার বাবা আমাদের নেতা কামরুজ্জামান কামরুলের মনোনয়ন না পাওয়ার খবরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বাবা কামরুল সাহেবের অসম্ভব ভক্ত ছিলেন। এই অসুস্থ শরির নিয়েও তিনি শুক্রবার বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় আসেন। কামরুজ্জামান কামরুল যখন আবেগঘন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন তিনি নিচে পড়ে যান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপিকর্মী মোদাচ্ছির আলম বলেন, আমাদের আসনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতা হলেন কামরুল ভাই। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছি। এই কষ্ট নিয়ে শুক্রবার যখন সমাবেশে যাই তখন তার আবেগঘন বক্তব্য শুনে বুকে ব্যথা অনুভব করি। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, কামরুল আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন। তিনি আমাদের সাধারন জনগনের মনের ভাষা বুঝেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কামরুলের জন্য পাগল। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তার প্রতিদ্বন্ধী যে থাকবে তার জামানত থাকবেনা। আমরা দলীয় ফোরামে কামরুল ভাইকে চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানাই।

 

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমার টাকাপয়সা নেই। আমার সভা সমাবেশে নেতাকর্মীরা খরচ তুলে পরিচালন াকরেন। সাধারণ নেতাকর্মীরাই আমার ভালোবাসা। তারা আমাকে কতটা ভালোবাসেন সেটা বুঝানো সম্ভবন না। আমার একজন ভক্ত কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে আমার বক্তব্যের সময় হৃদরোগে মারা গেছেন। আরেকজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মানুষের ভালোবাসা আছে বলেই অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকার আমার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দিয়ে, অসংখ্যাবার জেলে নিয়েও আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধবংস করতে পারিনি। এসব মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান আমি কিভাবে শোধ করবো জানিনা। প্রয়োজনে তাদের জন্য আমিও জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।আমি কর্মী হারানোর শোকে স্তব্দ। ##

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ