শিরোনাম
অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প নিচ্ছে সিসিক পর্যায়ক্রমে সিলেটকে একটি দৃষ্টিনন্দন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সবুজ নগরীতে রূপান্তর করা হবে – সিসিক প্রশাসক  দোয়ারাবাজারে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেফতার ক্যানসারে আক্রান্ত আব্দুল মজিদ বাঁচতে চায় দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন চত্ত্বর, পুরান পুলের মুখ, রেলগেইট যানজটের ‘হটস্পট’  সুনামগঞ্জ সদরে বালু পাথর ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত। ক্রাশার মেশিন ১টি  ২০০০ ফিট বড় পাথর ৮০০ ফিট ভাঙ্গা পাথর জব্দ।      ছাতকে ৪৪ বছরের ইমামতি জীবনের সমাপ্তিতে মৌলভী কবির আহমদের রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা ছাতক সরকারি কলেজ-কে শিক্ষা সহ  সকল ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে নিতে চাই— কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এমপি গোয়াইনঘাটে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুর পৌরসভা নিবার্চনে মেয়র পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আলিফ মিয়া
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন

ডিসির নির্দেশের পরও বন্ধ নেই জাফলংয়ে বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি! 

স্টাফ রিপোর্টার / ২৮৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫

91

ডিসির নির্দেশের পরও বন্ধ নেই জাফলংয়ে বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি! 

 

বিশেষ প্রতিবেদক:: গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজিতে হাবিবুল্লা-মানিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য  গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়াবস্তি এলাকার মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে হাবিবুল্লা, ওরফে হাবুল্লা। হাবিবুল্লা গত ৫ আগস্টের আগে ছিলেন সামান্য বারকি শ্রমিক। পট পরিবর্তনের পরে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন হাবিবুল্লা।

স্থানীয়রা জানান, পট পরিবর্তনের পর ঝুমপার থেকে শুরু হয় পাথর লোপাটের মহা উৎসব-সেই উৎসবে ছিলেন হাবিবুল্লা। তৎকালীন সময়ের স্থানীয় প্রশাসন ও উপর মহলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে দিনে ও রাতে অবৈধভাবে তুলতেন পাথর। পাথর লুটে প্রশাসনিক অভিযান হলেও তিনি বা তার বাহিনী সবসময় দরা-ছোয়ার বাইরে থাকতেন। ঘন ঘন অভিযান ও নদীতে পানি আসার কারণে বন্ধ হয়ে যায় পাথর উত্তোলন।

পাথর উত্তোলন বন্ধ হলেও হাবিবুল্লা বনে যান, আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। হাবিবুল্লার রাজত্ব এখন বারকি শ্রমিকদের মজুদ করা জমিদার মসজিদের পাশ ও জাফলং চা বাগান এলাকার নদী থেকে মেশিন দিয়ে বালু উত্তলোন করা ।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, হাবিবুল্লার রয়েছে ৮টি ড্রেজার মেশিন, যার প্রতিটির বাজার মূল্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা, দুটি সেভ মেশিন যার বাজার মূল্য দেড় লক্ষ টাকা; ক্রাশার মিলসহ পাঠনার; দামী মোটরসাইকেল ও বানিয়েছেন বিশাল অট্টালিকা।

শ্রমিকরা বলেন, জাফলং বাজারের জমিদার মসজিদের পাশে নদী থেকে বারকি শ্রমিকরা বালু তুলে মজুদ করেন। সেই মজুদ করা বালু বিক্রি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন বারকি শ্রমিকেরা।

সেখানেই নতুন করে পুলিশের ওসি ও স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশের নামে চাঁদা তুলেন হাবিবুল্লা, মানিক ও এক যুব নেতা মাহমুদ।

ছৈলাখেল গ্রামের শিরাজ মিয়ার ছেলে মানিক-লোক মুখে কালো মানিক নামে পরিচিত। মানিক ৫ আগস্টের আগে ছিলেন বারকি নৌকা সমিতির সভাপতি।

পট পরিবর্তনের পর রাতারাতি কোটি টাকার মালিক এখন মানিক। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে রয়েছে মানিকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। প্রায় সময় রাতে স্থানীয় পুলিশ নদীতে অভিযান করলে সেই অভিযানে পুলিশের সাথে দেখা মেলে মানিকের।

শ্রমিকরা জানান, যখনই নদীতে অভিযান হয়, সেই অভিযানের জন্য নৌকা ভাড়া করে দেন মানিক।স্থানীয় নৌকা চালক সুহেলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেন মানিক ।সেই সুবাধে সুহেলের সাথে অভিযানে যান মানিক। সেই সুবাদে কিছু পুলিশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মানিক।

শ্রমিকরা বর্ণনা করেন— সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে নদী থেকে বালু তোলা হয়। বালু জমিদার ঘাটে আনার পর পাইকারের কাছে বিক্রি করতে হয় অর্ধেক দামে।

অর্ধেক দামের কারন জানতে চাইলে তারা বলেন, ক্রেতারা বালু নিয়ে যাবার সময় হাবিবুল্লা বাহিনীকে দিতে হয় চাঁদা। চাঁদা না দিলেই পুলিশ দিয়ে গাড়িসহ বালি জব্দ করানো হয়। যে গাড়ি তাদের চাঁদা দেয়, সেটিই নির্বিঘ্নে নিজ গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, জমিদার মসজিদের পাশ থেকে প্রতি ট্রাক থেকে এক হাজার টাকা এবং ট্রাক্টর থেকে পাঁচশত টাকা করে চাঁদা তুলেন হাবিবুল্লা বাহিনী।

ড্রাইভার চাঁদা দিতে আপত্তি জানালে বা চাঁদা না দিয়ে চলে গেলে হাবিবুল্লা তার সহযোগী মানিক ও যুব নেতা মাহবুবকে তাৎক্ষণিক ফোন করেন। তাদের পরামর্শে গাড়ি পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি আসে । না মেনে চলে গেলে গাড়ি পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয় । সেই গাড়ি ধরার খবর প্রকাশ্যে আসে না বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।

 

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ