শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে কিশোরী গণধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার-৩ সিলেটে ফ্যামিলি সমাবেশ অনুষ্ঠিত জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের ফতেহখাঁ রোডে বড় বড় গর্ত, চরম দুর্ভোগে পথচারীরা। সিলেটের জাফলং পর্যটন এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা: দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পর্যটক, হুমকিতে পরিবেশ “মাননীয় সংসদ সদস্য ইমরান চৌধুরীর প্রতি একটি খোলা চিঠি” নেত্রকোনায় অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে পাঁচ শতাধিক মানুষের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প নিচ্ছে সিসিক পর্যায়ক্রমে সিলেটকে একটি দৃষ্টিনন্দন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সবুজ নগরীতে রূপান্তর করা হবে – সিসিক প্রশাসক  দোয়ারাবাজারে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেফতার ক্যানসারে আক্রান্ত আব্দুল মজিদ বাঁচতে চায়
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন

“মাননীয় সংসদ সদস্য ইমরান চৌধুরীর প্রতি একটি খোলা চিঠি”

স্টাফ রিপোর্টার / ২৯ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

39

মাননীয় সংসদ সদস্য ইমরান চৌধুরীর প্রতি একটি খোলা চিঠি”

 

স্টাফ রিপোর্টার:: সিলেট-৬ ইমরান আহমদ চৌধুরী মহোদয় যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখেই কিছু বিষয় আপনার দৃষ্টিগোচর করতে চাই। সাম্প্রতিক সময়ে আপনার আশেপাশে অবস্থান নেওয়া কিছু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড তৃণমূলের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ, হতাশা এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা অতীতে তাদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত ও পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা এবং প্রতিকূল সময়ে দলের পাশে দাঁড়ানো নেতাকর্মীদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, তাদের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কিছু ব্যক্তি, বিশেষ করে আহমেদ ফয়সালসহ কয়েকজন, অতীতে রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার পরিচয়ে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা নতুন অবস্থান গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে বিয়ানীবাজার প্রেস ক্লাব নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। স্থানীয়ভাবে এই সংগঠন এবং এর নেতৃত্বকে ঘিরে নানা আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমির ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

দুঃখজনকভাবে এখন দেখা যাচ্ছে, এসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের অনেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন। একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তাদের বারবার সামনে আনা হচ্ছে বলেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বিয়ানীবাজারে কি এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবস্থানকে উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে?

মাননীয় এমপি মহোদয়, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিনীত অনুরোধ—আপনি বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। যারা রাজনৈতিক সুবিধাবাদ, বিভ্রান্তি ও ব্যক্তিস্বার্থের মাধ্যমে আপনার আশেপাশে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারণ এ ধরনের ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক শক্তি এবং তৃণমূলের আস্থার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আজ যখন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মাঠে ও অনলাইনে দলের পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করছে, নানা অপপ্রচার ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন তাদের প্রত্যাশা—দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, পরীক্ষিত এবং ত্যাগী কর্মীরাই মূল্যায়িত হবেন। কিন্তু বাস্তবতা যদি ভিন্ন বার্তা দেয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হবে।

এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে সাময়িক অব্যাহতি/বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তে অনেক নেতাকর্মী বিস্মিত ও মর্মাহত হয়েছেন। কারণ তাদের বিশ্বাস, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দল ও সংগঠনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, কঠিন সময়ে দলের পাশে থেকেছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর ধারণা, কিছু স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী মহলের প্রভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে একজন পরিশ্রমী, পরীক্ষিত এবং নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক আজ দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন। কর্মীদের প্রত্যাশা, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রকৃত অবদান, ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

কারণ একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি তার তৃণমূল, তার ত্যাগী কর্মীবাহিনী এবং তার আদর্শের প্রতি নিবেদিত নেতাকর্মীরা। যদি তাদের মূল্যায়নের পরিবর্তে বিভ্রান্তিকর তথ্য, ব্যক্তিস্বার্থ ও সুবিধাবাদী চক্রের প্রভাব প্রাধান্য পায়, তাহলে সংগঠনের ভেতরে হতাশা, বিভক্তি এবং আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মাননীয় এমপি মহোদয়, সংসদ সদস্যের পদ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হতে পারে; কিন্তু জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভালোবাসা, আস্থা এবং সমর্থন অর্জন করতে হয় দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম, সততা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে। সেই আস্থাকে অবহেলা করা হলে তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া একসময় অনিবার্য হয়ে ওঠে।

আমরা বিশ্বাস করি, আপনি তৃণমূলের এই উদ্বেগ ও অনুভূতিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যা প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মর্যাদা, মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ