এস আই আব্দুর রহিম জিবান সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রহিম জিবান। সফল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কার্তুজ উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাকে সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচন করে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়,সিলেট। বর্তমানে তিনি সিলেটের সুনামগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত আছেন সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে। ঝুকি নিয়ে সফল অভিযানে বিশেষ অবদান রাখায় সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মুশফেকুর রহমান তাকে সম্মাননা পত্র প্রদান করেন। ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা এস আই আব্দুর রহিম জিবান এর হাতে তুলে দেন রেঞ্জ ডিআইজি।
রেঞ্জ ডিআইজি সূত্র জানায় , আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাহসী ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্যে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
BSS পাস করে আব্দুর রহিম জিবান বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন ২০০৪ সালে । যাত্রা শুরু হয় আর আর এফ সিলেট থেকে। পরবর্তীতে সদর দপ্তর, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), চট্টগ্রাম রেঞ্জ, চট্টগ্রাম জেলা, কুমিল্লা জেলা, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, মৌলভীবাজার জেলার জেলা, বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত।
যে কাজের কারনে বিভাগের শ্রেষ্ঠ :::সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযান এতে মোট ৯৫০ রাউন্ড ১২ বোর শর্টগানের কার্তুজ জব্দ করা হয় এবং ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সুনামগঞ্জ সদর থানার রাধানগর এলাকার আমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মামুন মিয়া (২৩) ও মোঃ উবায়দুল (২১)। ২০২৫সালের ১৫ নভেম্বর শনিবার সকালে। ডিউটি পালনকালে ডিবি পুলিশের এসআই আব্দুর রহিম জিবান এ তথ্য পান।
তিনি বিশ্বম্ভরপুর থানার চালবন এলাকা থেকে রাধানগর হয়ে জামালগঞ্জের সাচনা বাজারগামী দুটি মোটরসাইকেলে বিপুল পরিমাণ শর্টগানের কার্তুজ পাচার করা হচ্ছে বলে জানতে পেরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল নিয়ে দ্রুত সাচনা বাজার এলাকায় অবস্থান নেন
পরবর্তীতে সকাল ৭টার দিকে সন্দেহজনক দুটি মোটরসাইকেলকে থামার নির্দেশ দিলে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যায়। অপর মোটরসাইকেলটিকে আটক করে তল্লাশি করা হলে এতে লুকানো অবস্থায় ৯৫০ রাউন্ড ১২ বোর শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই উক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। সে অভিযানের কারণেই আব্দুর রহিম জীবান কে বিভাগের শ্রেষ্ঠ সাব ইন্সপেক্টর আখ্যায়িত করে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় সিলেট
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পুলিশিং সেবা দিতে আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন মৌলভীবাজার জেলার কুলাঊড়া ও শ্রীমঙ্গলে এস আই আব্দুর রহিম জীবান।শ্রীমঙ্গলে গাড়িচুর, কুলাউড়ায় মোটরসাইকেল ও গাড়ি চোর অনেকেই রিকভারি হয়েছেন তার হাতে। মাদকের শহরকেন্দ্রিক অনেক আস্তানা বন্ধ হয়েছে তার আন্তরিক প্রচেষ্টায়।
শুধু তাই নয় মাদকাসক্ত বিপথগামী অনেক যুবককে নিয়ে অনেক ভালো ভালো পরিবারের অস্থিরতা দূর করতে মাদকাসক্ত অনেক যুবককে শাসন ও কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে করবো কি করেছেন এবং বিদেশে যেতে বাধ্য করেছেন এই মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা।
কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে তিনি ২০১২ সালে এ,এস,আই, ২০১৮ সালে ঊপ পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান। নীরব নিস্তব্ধ তার মধ্যে কর্মদক্ষ, আচরণ দোয়া, আশীর্বাদ পাওয়ার যোগ্য। চাকুরী জীবনে অনেক চেলেঞ্জিং ও ক্লু লেস মামলার তদন্তবার গ্রহণ করা এবং তদন্তে প্রতিয়মান অপরাধে পাহাড় সমান এমন আসামিদের সনাক্ত পূর্বক আইনের আওতায় আনা যার ভাগ্য।
শুধু তাই নয় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ এর বিপরীত দিকে থাকা নিরীহ অনেক বাদী ও বাদীনির মামলা তদন্তে সাহসিকতার কারণে সুবিচার পেয়েছে অনেক অসহায় পরিবার। আবার কিছু জায়গায় অভিযোগের তদন্তে নেমে বীট পুলিশিং এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের সমস্যা নিরসন কল্পে নিজ উদ্যোগে নিয়েছেন ব্যবস্থা এমনই এক পুলিশ কর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রহিম জিবান।
সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলা মূলত ভারতের মনিপুর থেকে আসা বরাক নদী এবং সিলেটের কুশিয়ারার মোহনা (তিন নদীর মোহনা)। আব্দুর রহিম জিবান এর গ্রামের বাড়ি জকিগঞ্জ ঊপজেলার নূর পুরে । সেখানকার সংস্কৃতি ধর্মীয় অনুশাসনে পরিচালিত হওয়ায় তার বেড়ে ওঠা অনেকটা ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসন মেনে পারিবারিকভাবে। যে কারণে তার মধ্যে রয়েছে মানবিকতা ও ধার্মিকতা।