শিরোনাম
হরিরামপুরে বয়ড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত । গোয়াইনঘাটে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন এজাহার ভুক্ত আসামি গ্রেফতার ৮ ভোলায় গ্রাম বাংলা জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় যানজট নিরসনের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় ক্রীড়া উৎসব  কানাইঘাটে থানার দালাল সফিরের ক্ষমতার বাহাদুরি গোয়াইনঘাটে স্থানীয় পুলিশের ‘লাইনম্যান’ পরিচয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি নেপথ্যে কামাল ও আল-আমিন- গোয়াইনঘাটে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসে অমর. সীমিত আয়ের মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

কানাইঘাটে থানার দালাল সফিরের ক্ষমতার বাহাদুরি

স্টাফ রিপোর্টার / ৭০ Time View
Update : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

কানাইঘাটে থানার দালাল সফিরের ক্ষমতার বাহাদুরি

 

নিজাম উদ্দিন কানাইঘাট থেকে ফিরে: সিলেট জেলার কানাইঘাট থানার ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কোনাগ্রাম গ্রামের মৃত আব্দুর রকিবের ছেলে ছফির উদ্দিন উরফে সফিরে (৫০)এর অত্যাচারে অতিষ্ট্য স্থানীয় এলাকার জনসাধারণ। স্থানীয়রা জানান, সফির উদ্দিন দীর্ঘ এক যুগের বেশী সময় থেকে কানাইঘাট থানার ওসি দালাল, দারোগার সোর্স হিসাবে এলাকায় দাপটের সাথে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা পয়সা আদায় করে। সম্প্রতি সময়ে ইউনিয়নের একাধিক সাধারণ মানুষকে পুলিশী গ্রেফতারের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সফি উদ্দিন নিজেকে আওয়ামী লীগ ঘরোনার লোক পরিচয় দিয়ে শুরু করে থানার দালালী ও সোর্সগীরি। তার অত্যাচারে অতিষ্ট্য ছিলো তার আপন ভাইয়েরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারই এলাকার কয়েকজন সাধারণ মানুষ। সফিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা-মোকদ্দমা থাকলে পুলিশ তাকে কখনো আটক করেনি। বরং আসামী সফির উদ্দিনকে সাথে নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা পয়সা আদায় করতো সেই সময়কার বিট অফিসাররা। এক সময় সফির নিজেকে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের বিট অফিসার এসআই সঞ্জিতের সোর্স হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিতো। সে সময় থানার সাবেক ওসি আব্দুল আহাদের সোর্স হিসাবে এলাকার মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করতো বলে অভিযোগ ছিলো।

 

বিষয়টি জানতে পেরে ওসি আব্দুল আহাদ সফিরকে থানায় ডেকে শায়েস্থা করে বলেন, পুলিশের নামে কোন মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করলে চৌদ্দসিকের ভিতরে ডুকিয়ে দেবেন। এরপর থানায় যাতায়াত বন্ধ করে সফির। ওসি আহাদ চলে গেলে সফির নিজেকে সঞ্জিতের সোর্সঅ পরিচয় দিতে শুরু করে। আওয়ামী লীগ সরকারের পঠপরিবর্তন হলে সফি উদ্দিন এবার নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিয়ে নতুন করে পুলিশের দালালীসহ সোর্সগীরি শুরু করে। সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতীক মামলার ভয় দেখিয়ে পুলিশের কথা বলে ওপেন টাকা পয়সা নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি আবার থানার পুলিশ এসে সফির উদ্দিনকেই সাথে করে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা তদন্তে যাচ্ছেন। কারণ সফির উদ্দিন বাদী-বিবাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে থাকেন। যার ফলে আইনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। অভিযোগ আছে, এলাকায় কয়েকটি মাদক স্পট থেকে সফির উদ্দিন বিট পুলিশের নামে টাকা আদায় করে থাকেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। থানার একাধিক পুলিশ সদস্যর সাথে কথা বলে জানা যায়, কানাইঘাট থেকে বিদায়ী ওসি আব্দুল আউয়াল যোগদানের পর থেকে নতুন করে কানাইঘাট থানায় অবাধে যাতায়াত শুরু করে সফির উদ্দিন। ওসি আউয়াল বদলী হলে থানায় নবাগত ওসি যোগদানের পর নতুন করে নিজেকে ওসির নিজস্ব সোর্স পরিচয় দিতে শুরু করেন। অথচ ওসি নিজেই সফির উদ্দিনকে চিনেন কিনা সন্দেহ।

অভিযোগ রয়েছে, কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে এবং হরিপুর থেকে গাছবাড়ি হয়ে ভারতীয় চোরাচালানের ল্যাইনটি দেখাশুনা করেন এই সফির উদ্দিন। উপজেলার ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে চোরাইপণ্যর গাড়ি প্রবেশ করলেই থানার বিট অফিসারের নামে লাইনের টাকা আদায় করেন সফির উদ্দিন। সকাল থেকে রাত ৪টা পর্যন্ত সফির উদ্দিন বসে থাকেন স্থানীয় নয়াবাজারে। থানা থেকে যে কোন এসআই, এএসআই এলাকায় প্রবেশ করেই সফিরকে সাথে করে বিভিন্ন স্থানে আসামী গ্রেফতারের নামে চলার ঘুষ বাণিজ্য। সম্প্রতি সময়ে সফির উদ্দিন এখন এলাকায় এক পুলিশি আতংকের নাম।

এ বিষয়ে সফির উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমাকে থানার ওসি-দারোগা ডেকে নেন, থানায় বিচার-আচারের জন্য। এলাকায় কোন মামলা কিংবা অভিযোগ তদন্তে আসলে আমাকে ছাড়া হয় না, তাই তারাই আমাকে নিয়ে যান তদন্ত করতে। আমি থানার ওসি ও দারোগাদের কথা মতো কাজ করি। চোরাচালানের টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে, সফির উদ্দিন অভিযোগ স্বীকার করলেও উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

এ প্রতিবেদককে চাপ দিতে থাকেন তথ্য দাতাদের নাম পরিচয় তাকে দেওয়ার জন্য। তিনি থানার ওসিকে দিয়ে তথ্যদাতাকে দেখে নিবেন বলে হুমকি দিতে থাকেন। তিনি বলেন, আমি নিয়মিত এলাকার বিভিন্ন বিষয় তিনি থানায় যাতায়াত করেন এবং বিরোধ নিস্পত্তি করে দেন। এতে মানুষ খুশি হয়ে তাকে খুশি করেন। তবে তিনি নয়াবাজারের পাশাপাশি রাজাগঞ্জ বাজারে বসেন বলে প্রতিবেদককে বলেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে, স্থানীয় একজন প্রতিনিধি জানান, সফির হলো থানার দালাল, রাত হলেই পুলিশ নিয়ে বিভিন্ন মানুষকে পুলিশের কাছে মামলা আছে বলে, টাকা পয়সা নিয়ে পুলিশ ও সে ভাগ করে খায়। তার কোন নির্ধারিত পেশা নেই। থানার দালালীই তার মূল পেশা। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, সফিরের কোন নির্ধারিত পেশা আছে কি না খোঁজ নিয়ে দেখেন।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ