ফাইল ছবি
।যুবদল নেতার গাড়িতে হামলার ঘটনায় আটক হয়নি কেউ
–
স্টাফ রিপোর্টার:: গত ৯ ডিসেম্বর সিলেট-৪ আসনের (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানিগঞ্জ) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর একটি নির্বাচনী গাড়িতে সংঘটিত হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, গাড়িতে হামলাকারীরা পলাতক। নিজ দলের একটি গ্রুপের এ হামলার ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী আরিফের নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ৯ ডিসেম্বর রাত দেড়টার দিকে সিলেট-জাফলং মহাসড়কের তামাবিল পয়েন্ট জাফলংগামী পূর্ব পাশে বিয়াই রেস্টুরেন্টের সামনে পাকা রাস্তার উপর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফের নির্বাচনী একটি জীপ গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। জীপ গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়
আরিফুল হকের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
সিলেট জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেমসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয় (মামলা নং-০৭, তারিখ ১০ ডিসেম্বর)।
এ পর্যন্ত আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত গাড়িতে মামলার কোনো আসামিকে পুলিশ আটক করেনি। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনার প্রধান আসামী গোয়াইনঘাটের নলজুরি গ্রামের সামসুল হকের ছেলে আবুল কাশেম এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে, কিন্তু পুলিশ তাকে আটক করছে না। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, উপজেলার শান্তিনগর গ্রামের সিকান্দার আলীর ছেলে যুবদল নেতা জয়দুল,
নলজুরি আমস্বপ্ন গ্রামের মান্নানের ছেলে বাবলা, জৈন্তাপুরের মজুমদারপাড়া গ্রামের শামীম মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া, গোয়াইনঘাটের শান্তিনগর গ্রামের সিকান্দার আলীর ছেলে আখতার, নলজুরির খোরশেদ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম, গুচ্ছগ্রামের মনু বাদশার ছেলে শাহিন আহমদ, নলজুরির মান্নানের ছেলে রিফাত, নলজুরির বাবুল মিয়ার ছেলে জাহিদুল, গুচ্ছগ্রামের ডালিম, নলজুরি আমস্বপ্নের খোরশেদ মিয়ার ছেলে ইরন মিয়া, জৈন্তাপুরের ৪ নম্বরের শফিক মিয়াসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন হামলাকারী। এরা সকলেই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, উক্ত হামলার ঘটনায় মামলার বাদী হয়েছেন গ্লরি ২০২৪ মডেলের জীপ গাড়িটির (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৬-৬৩২০) মালিক হলেন সিলেট জেলা ছাত্রদল নেতা সোহেল আহমদ। তিনি জাফলং চা বাগান কান্দুবস্তি গ্রামের মখর মিয়ার ছেলে। মামলার বাদী সোহেল আহমদ এজাহারে দাবি করেন, তিনি সোনাটিলার একটি স্টোন ক্রাশারের পাথর ব্যবসায়ী। গাড়িটি তিনি সিলেট-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহারকরার জন্য দিয়েছিলেন। গাড়িটি নিজের ব্যবসার কাজে ব্যবহার করেন। ঘটনার রাতে ওই জীপ গাড়িটি তার চাচাতো ভাই রহমত আলী ও চালক ফারুক হোসেন সিলেট শহর থেকে নিয়ে জাফলংয়ের দিকে রওনা হন। ঘটনাস্থল জাফলংয়ের বিয়াই রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছলে হামলার শিকার হয় গাড়িটি।
সহযোগীরা গাড়িটি ভাঙচুর করে, গাড়ির ভিতরে হামলাকারী যুবদল নেতা আবুল কাশেম ও তার থাকা রহমত আলী ও চালক ফারুক হোসেনকে রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়াও গাড়ির ভিতরে থাকা সাড়ে ৬ লাখ টাকা লুট করা হয়। ভাঙচুরের ঘটনায় গাড়িটির কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
মামলার বাদী সিলেট জেলা ছাত্রদল নেতা সোহেল আহমদ আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় লুট করা হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ টাকা। কিন্তু পুলিশ মামলা সময় টাকা লুটের ধারা কেটে ফেলেছে। আমি এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে দরখাস্ত দিয়েছি।’
বহিষ্কৃত নেতা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি গাড়িতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা যুবদলের হামলার সময় সিলেটে ছিলাম। গাড়িতে আমি হামলা করিনি। আমি বর্তমানে উচ্চ আদালতের আগাম জামিনে আছি।’
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এফআইআর-এ মামলা কোনো ধারা বাদ পড়লে পরবর্তীতে তদন্তের শেষে চার্জশীটে যুক্ত করা হবে। গাড়িতে হামলা, ভাঙচুরে জড়িত আসামিদের আটকে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে’।
সূত্র জানায়, জাফলং যুবদলের দুটি গ্রুপে বিভক্ত। সেই আধিপত্য তৈরির বিরোধ থেকেই সোহেল আহমদের জীপ গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলার ঘটনায় নিজ দলের কাছেই বিএনপির প্রার্থী আরিফ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছেন বলেই মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।