মহানায়ক সালমান শাহ’র হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবীতে সিলেটে মশাল বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক : : সালমান শাহ হত্যার বিষয়টি আত্মহত্যা বলে প্রথমে চালিয়ে দিলেও হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে প্রশাসন ও দেশবাসী এবং তার পরিবার। হত্যা মামলা দেয়া হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। মামলা নিয়েছে প্রশাসন কিন্তু এখনো এটি লাল ফিতায় যেন বন্দি। আলোর মুখ দেখছে না, এতে করে অপেক্ষা দিনও যাচ্ছে না , সালমান শাহর পরিবার, সজন প্রিয়জন, সহপাঠী, অনুসারী, ভক্ত এবং সচেতন দেশবাসীর।
মামালার বাদী তার মামা কুমকুম জানিয়েছেন, আমাদের ইমন আপনাদের মহানায়ক সালমান শাহ কে হত্যা করা হয়েছে প্রমাণিত হওয়ায় আপনারা কলঙ্কমুক্ত হয়েছেন আমরাও অজানা প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি। সালমান স্মৃতি লালন করে সিলেটের জিন্দাবাজার,দারিয়াপাড়ায় মামার বাসায় এখনো ভীড় জমায় দেশ বিদেশের ভক্তরা । শুধু তাই নয় শিল্পী অনুসারী, শিল্প সংস্কৃতি , কলা কৌশলী, নায়ক নায়িকা এই জগতের সহ যারা সকলেই একবার সালমান শাহ এর এই বাসায় এসে সান্ত্বনা দিয়ে যান স্বজনদের। অপেক্ষা করতে বলেন বিচারের। বিচার হবে এটি আশ্বস্ত করেন তারা।
হত্যার ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ার পর থেকে দেশ বিদেশে ভক্ত অনুসারীরা মহানায়ক সালমান শাহ হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে সামাজিক আন্দোলন করে তুলেছে।
কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, কেউ গণমাধ্যমে বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে , কেউ কেঊ মানববন্ধনসবার সমাবেশ করে দাবি তুলে আসলেও। বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন করে সালমান ভক্তদের আন্দোলনের যোগ হয়েছে মশাল বিক্ষোভ।
সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ভক্তদের মশাল বিক্ষোভ সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ২৮ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায়।
এসময় বক্তব্য রাখেন সালমান শাহ স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মাতা শাহরুখ বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক অভিনেতা শামস্ নির্ঝর ও সাংঘঠনিক সম্পাদক যুব সংগঠক এবং অভিনয়শিল্পী মোঃ কামাল।
বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে দীর্ঘ ২৯ বছর পরে আত্মহত্যার দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন সালমান শাহ। তবে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা প্রকৃত বিচারে।
সালমান শাহ স্মৃতি সংসদ (কেন্দ্রীয় কমিটি) সিলেট এর সভাপতি শাহরুখ বিপ্লব বলেন,, -সালমান শাহর খুনকে দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে আসছিলো।
২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সঠিক তদন্তের জন্য রমনা থানাকে নির্দেশ দেন।সেই সাথে আসামীদের দেশত্যাগের ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।কিন্তু আসামিরা দেশে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ করেন সালমান শাহ স্মৃতি সংসদ নেতৃবৃন্দ
মাত্র ২৭ বছরের জীবনে সালমান শাহ ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন—সব কটিই ছিল বাণিজ্যিকভাবে সফল। নব্বইয়ের দশকে দেশের চলচ্চিত্রে রোমান্টিক হিরোর নতুন ধারা শুরু হয় তাঁর হাত ধরে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ‘মায়ের অধিকার’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’সহ তাঁর প্রতিটি সিনেমাই বক্স অফিসে হিট সুপার হিট হয়।যা একজন নায়কের জন্য বিরল।
উক্ত বিক্ষোভে সবার দাবি ছিলো আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে সালমান শাহ হত্যার বিচার নিশ্চিত করা। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নারী উদ্দোক্তা কেয়া আহমদ,জাতীয় যুব পুরস্কার প্রাপ্ত মোঃ নজরুল ইসলাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এম এইচ হাফিজ, সুমন আহমেদ, রোজি বেগম, সুলতানা বেগম প্রমুখ 
পুলিশের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন ২৯ বছর পর অপবর্তি মামলা হত্যা মামলাতে পরিণত হওয়ায় মামলাটিকে তদন্ত করা হচ্ছে নতুনভাবে। তবে এ মামলার তদন্ত কর্তাকে পাওয়া যায়নি মোঠফোনে।
মূলত একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা ও মডেল। যার প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। তিনি ১৯৯৩ সালে কেয়ামত থেকে কেয়ামত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে সূচনা করেব।১৯০ এর দশকে বাংলাদেশের জনপ্রিয়ও অন্যতম প্রভাবশালী সুপারস্টার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন সালমান শাহ ।
মাত্র ৫ক্যারিয়ারে যোগ হয় তার ২৭ টি চলচ্চিত্রের অভিনয়। যেগুলো বেশিরভাগই ছিল দর্শক প্রিয়। উল্লেখ্য সালমান শাহ হত্যা মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক,আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডন সহ ১১ জন কে করা হয়েছে আসামি। সালমান শাহ ছিলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা ও মডেল, যার প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। তিনি ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন এবং ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী সুপারস্টার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মাত্র পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যেগুলোর বেশিরভাগই ছিল দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসাসফল। জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তবে অভিযোগ রয়েছে আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন গ্রেপ্তার না করে রয়েছে উদাসীন রহস্যজনক কারণে। সচেতন মহলে প্রশ্ন একটি মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল তা খোলাসা হয়েছে তারপরও কেন আসামী গ্রেফতারের প্রশাসনের অনিহা?
আরো দেখুন ভিডিওতে
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার ঢাকায় ইস্কাটনে নিজের বাসায় ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মারা যান। প্রথমে এটি আত্মহত্যা বলে ময়না তদন্তে আসলেও শুরু থেকেই তার মৃত্যু নিয়ে ছিল গুঞ্জন আর রহস্য।
তবে সালমান শাহ কে দাফন করা হয়েছে সিলেটে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহ আলাইহি এর মাজার প্রাঙ্গণের কবরস্থানে। এ কারণে দর্শনার্থীরা সিলেটে এসে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি ৷ প্রিয় নায়ক সালমান শাহ এর কবর জিয়ারত করে থাকেন।