# সিলেট বুলেটিনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর নাম বাদ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন পুলিশের #
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া: সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মারামারি ও পরে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা থেকে চারজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ।
মিথ্যা মামলা দায়েরের পর আদালতে মামলা দিয়ে সেখান থেকে তুলে এনে থানায় নতুন করে পরিবহন সভাপতি সহ নেতাদের আসামি করে মামলা দায়েরের পর তারা প্রতিবাদ সভা ডেকে পুলিশ কমিশনার বরাবরের স্মারকলিপি প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী কথা দেন ঘটনায় জড়িত নয় এমন কাউকে মামলায় আসামি করা হবে না । হয়রানি ও করা হবে না। জড়িত না থাকলে অব্যাহতি দেওয়া হবে মামলা থেকে। এ ঘোষণার কারণেই পরিবহন শ্রমিক নেতারা নিত্য মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ডাকা আন্দোলন স্থগিত করে।
জানা যায়,চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটের বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কদমতলিস্থ বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়।
এসময় ভাঙচুর করা হয় বাস ও টিকিট কাউন্টার। আহতদের মধ্যে বাস হেলপার রিপন আহমদ ও চালক দেলওয়ার হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে হাসপাতালে মারা যান।
ঘটনার পর রিপন আহমদের বাবা ছাবলু মিয়া ও নিহত দেলওয়ার হোসেনের বাবা আজির উদ্দিন পৃথক দুটি হত্যা মামলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সামছুল হক মানিক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মিয়া, শ্রমিক আব্দুল বাছিত বাছা সহ শ্রমিক সহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
শ্রমিক রিপন হত্যা মামলায় সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় গত ১০ জুন দক্ষিণ সুরমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারায় আদালতে একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে মামলার প্রধান আসামি শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি ময়নুল ইসলাম, দ্বিতীয় আসামি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, ষষ্ঠ আসামি আব্দুস শহিদ এবং সপ্তম আসামি সামসুল হক মানিককে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনটি অগ্রবর্তী করেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট চারজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। কমিশনারের নির্দেশে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়টি বাদিকেও অবহিত করা হয়।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রিপনের পিতা গোলাপগঞ্জ উপজেলার রনকেলী এলাকার ছাবলু মিয়া (৫৯)।কথা বলা হয় তার সাথে এ প্রতিবেদকের তিনি জানান , ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি মামলা করেছিলেন আদালতে । ওই মামলা তিনি পরে উত্তোলন করেছেন। নতুন করে থানায় দেয়া মামলায় আগের আসামিদের পাশাপাশি যুক্ত করেছেন আরো নাম ।তবে মুখে বলতে পারেননি নতুন আসামির নামগুলো মামলার বাদি দিনমজুর ছাবলু মিয়া। বলেন কাগজে লেখা আছে । মামলার বিষয়ে প্রথম প্রশ্ন করার পর কিছুক্ষণ কথা বলে লাইন কেটে দেন তখন ট্রাই করে দেখা যায় ওয়েটিং এ। পরে আবার কথা বলেন মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে।
মামলার আরেক বাদি বিয়ানীবাজারউপজেলার বাঘবাড়ি এলাকার নিহত দেলোয়ারের পিতা আজির উদ্দিন কে মামলার এজাহারে দেয়া 013441245 70 নাম্বারে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি। কথা হয় দেলোয়ারের ভাই সিএনজি চালক আনোয়ার হোসেনের সাথে । মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানেনা তিনি । বলেন বাবা মামলার বাদী।