২০০ বছরের ঐতিহ্য ফিরে পাচ্ছে ঘিওরের গরু-ছাগলের হাট।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:: দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর আবারও পূর্ণাঙ্গ রূপে শুরু হতে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো গরু-ছাগলের হাট। আগামী ২০ মে থেকে টানা ৭ দিনব্যাপী এই হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগল বেচাকেনায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছামতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কারণে ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে ঐতিহ্যবাহী এ হাট। বিশেষ করে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপরিকল্পিত নদী খননের ফলে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এতে হাটের বিশাল অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় হাট কর্তৃপক্ষ। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাটের জৌলুস হারিয়ে যায়।
তবে চলতি বছর স্থানীয় জনগণের উদ্যোগ এবং মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির এর সার্বিক সহযোগিতায় হাটটি আবারও নতুনভাবে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাটের অবকাঠামো উন্নয়ন, জায়গা সংস্কার ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০ মে হতে ছাগল হাটের পাশেই বিশাল গরু-ছাগলের হাট বসানো হবে।
ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান খান কুদরত বলেন, “একসময় এই হাটে হাজার হাজার গরু-ছাগল উঠত। নদী ভাঙনের কারণে সবকিছু প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার হাট চালু হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।”
ঘিওর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জাকির হোসেন বাপ্পি বলেন, “এই হাট ঘিরে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য জমে ওঠে। হাট পুরোপুরি চালু হলে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগও বাড়বে।”
ইজারাদার সবুজ বেপারী জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ও পশু পরিবহনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, ঐতিহ্য ফিরে পেয়ে আবারও দেশের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিতি পাবে ঘিওরের এই ঐতিহ্যবাহী গরু-ছাগলের হাট।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ -১ আসেন সাংসদ এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, “ঘিওরের এই ঐতিহ্যবাহী হাট শুধু একটি বাজার নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে হাটটিকে পুনরায় প্রাণবন্ত করতে আমরা কাজ করেছি। হাট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া আছে এই বছর নামে মাত্র হাসিল নেওয়া হবে এবং ঈদের পর হতে আগামী ঈদ পর্যন্ত ৩০০ টাকা হাসিল নেওয়া হবে। আশা করছি, এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপক সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ নিজাম উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক : আইয়ুব আলী অফিস ; খান কমপ্লেক্স, সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, সিলেট। যোগাযোগ : প্রকাশক ও সম্পাদক : ০১৭৩৭-৩০৪৭৫১। ই-মেইল : sylhetbuletin@gmail.com
All rights reserved © 2025 sylhet buletin