শিরোনাম
নেত্রকোনায় অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে পাঁচ শতাধিক মানুষের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প নিচ্ছে সিসিক পর্যায়ক্রমে সিলেটকে একটি দৃষ্টিনন্দন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সবুজ নগরীতে রূপান্তর করা হবে – সিসিক প্রশাসক  দোয়ারাবাজারে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেফতার ক্যানসারে আক্রান্ত আব্দুল মজিদ বাঁচতে চায় দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন চত্ত্বর, পুরান পুলের মুখ, রেলগেইট যানজটের ‘হটস্পট’  সুনামগঞ্জ সদরে বালু পাথর ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত। ক্রাশার মেশিন ১টি  ২০০০ ফিট বড় পাথর ৮০০ ফিট ভাঙ্গা পাথর জব্দ।      ছাতকে ৪৪ বছরের ইমামতি জীবনের সমাপ্তিতে মৌলভী কবির আহমদের রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা ছাতক সরকারি কলেজ-কে শিক্ষা সহ  সকল ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে নিতে চাই— কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এমপি গোয়াইনঘাটে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন

ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় জিম্মি ও ২২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ সুনামগঞ্জে মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার / ১৪৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

209

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এবং লিবিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী এমরান হোসেন আদিলের স্ত্রী মোছা সজুনা আক্তার খাদিজা বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মোছা শোবি বেগম, মনফর আলী, শামছুল ও মেসকার মিয়াসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় যে আসামিরা ভুক্তভোগী এমরান হোসেন আদিলকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এবং স্থায়ী বসবাসের ভিসা দিয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২২ লক্ষ টাকা চুক্তিতে রাজি করান। চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা ও পাসপোর্ট গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদিলকে প্রথমে চেন্নাই এবং পরে শ্রীলঙ্কা হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর আসামিরা তাদের নিজস্ব লোকবল দিয়ে আদিলকে প্রায় দেড় মাস জিম্মি করে রাখে।

অভিযোগে আরও বলা হয় যে আসামিরা আদিলকে ইতালি পাঠানোর নাম করে বাদীর কাছ থেকে আরও ১৯ লক্ষ টাকা দাবি করে। নিরুপায় হয়ে বাদী মোছা সজুনা আক্তার খাদিজা আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং স্বামীর জমানো টাকা থেকে আসামিদের কয়েক দফায় টাকা প্রদান করেন। এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে এবং ১৪ লক্ষ টাকা নগদ প্রদান করা হয়। টাকা পাওয়ার পর ১ নং আসামি মোছা শোবি বেগম স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিলেও আদিলকে ইতালি না পাঠিয়ে লিবিয়াতেই আটকে রাখা হয়।

পরবর্তীতে আসামিরা মোবাইল ফোনে জানায় যে এমরান হোসেন আদিল মাফিয়া চক্রের হাতে ধরা পড়েছে এবং তাকে বাঁচাতে হলে আরও ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাকে মারধর করার ভিডিও বাদীর কাছে পাঠানো হয়। স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে বাদী আবারও ৫ লক্ষ টাকা আসামিদের হাতে তুলে দেন। সব মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বাদীর নিযুক্ত উকিল এডভোকেট রমজান আলী জানান মামলাটি জগন্নাথপুর থানায় এফআইআর হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন মাননীয় আদালত। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী ন্যায়বিচারের আশায় এই মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবার আদিলকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ