গাজীপুরে সাংবাদিক বাচ্চু চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা হাতুড়ি দিয়ে নৃশংস হামলা: উত্তাল রাজপথ, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
কামাল খান:: গাজীপুরে ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চুর ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ফেটে পড়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় টঙ্গী প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন কর্মীরা প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হামলাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
হামলার নৃশংসতা ও প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বি.কে বাড়ি এলাকায় সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু নিজ বাসভবনের নির্মাণ কাজ তদারকি করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী গনি মিয়া, মোফাজ্জল হোসেন ও মাসুদ সহ একদল সশস্ত্র বাহিনী তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা হাতুড়ি, রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে পিটিয়ে জখম করে। হাতুড়ির আঘাতে তার ডান চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
বক্তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি
মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে গণমাধ্যম কমিশনের সভাপতি এ কে এম আজিজুল হক বলেন, “একজন কলম সৈনিকের ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা মানেই মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা। এই নারকীয় তাণ্ডব কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না।” সিনিয়র সহ-সভাপতি ও
টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল তার বক্তব্যে বলেন, “সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির দর্পণ। তাদের ওপর এই হামলা পরিকল্পিত এবং ন্যাক্কারজনক। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় না আনলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।” সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন চৌধুরী প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ঘটনার সময় ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পরও পুলিশ পৌঁছাতে দেরি করেছে। মামলার পরও প্রধান আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা অবিলম্বে গনি ও মোফাজ্জল সহ সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের অবস্থান
এই ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা (নং-১৮, ১৭ এপ্রিল ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে, যেখানে চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সাংবাদিক কামাল খান তিন দফা দাবি করেন
মানববন্ধন শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তিন দফা দাবি পেশ করেন:
১. মামলার প্রধান আসামিসহ সকল অভিযুক্তকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।
২. সাংবাদিকদের জীবন ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইনি বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল হক, সিনিয়র সদস্য মোঃ ওবায়দুল হক,টঙ্গী প্রেসক্লাবের কোষাধক্ষ্য হাসান মামুন,সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা প্রেসক্লাবের সদস্য, কামাল খান,সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এম বিল্লাহ শিশির,কেন্দ্রীয় সদস্য মামুন আহমদ ফিরোজ,মোঃ জহিরুল ইসলাম হামিদ, টঙ্গী সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি মোঃ আওলাদ হোসেন প্রমুখ। বক্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ চলবে।