৬৩ এতিম মেয়েকে জীবন সঙ্গী দিলো সিডস অব সাদাকাহ, :আনুষ্ঠানিকতায় বিশিষ্টজনের উপস্থিতি
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া; বৃহস্পতিবার ঝলমলে জমকালো আয়োজন ৬৩ এটি মেয়ের জীবনের এক ঐতিহাসিক শুভক্ষণ। জীবনসঙ্গী নির্ধারণ। জীবন থেমে থাকে না । বয়স ধনী গরিব মানে না। কিন্তু তারপরও ভালো নেই সমাজটা ।
যৌতুক প্রথা আমাদের জীবন কেড়ে নিয়েছে গ্রামীণ অসহায় মানুষের গহীনে পৌঁছাতে পারলেএ সব ঘটনার দৃষ্টান্ত খুঁজে মিলে। আবার বিয়ের পরও যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় অসহায় পিতার কন্যাকে আসতে হয় নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার ঘরে ফিরে। অথবা জীবন দিতে হয় কোন না কোন ভাবে। জানিনা এসব বাস্তবতা সভ্য সমাজ ব্যবস্থা থেকে থেকে দূর হবে কবে? আর এসব কুসংস্কারের গ্যাড়াকলে আজও জীবন যুদ্ধে অনেকে। এসবের প্রতিকার চেয়ে
আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে হলো যৌতুক প্রথা বন্ধে এক নীরব প্রতিবাদ ইসলামের নিয়ম-কানুন মেনে ৬৩ এতিম মেয়ের বিবাহ বন্ধনের মধ্য দিয়ে।
একসাথে রংপুর ও সিলেট অঞ্চলের ৬৩ এতিম মেয়ের বিয়ের আয়োজন ছিল নগরীর বালুচরের একটি অভিজাত কমিউনিটি সেন্টারে।
ইংল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন সিডস অব সাদকাহ তাদের খরচে ৬৩ এতিম মেয়ের হাতে তোলে দিল জীবনসঙ্গী। বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল বিরাট আয়োজন। যৌতুকবিহীন এই বিয়েতে দেশ বিদেশ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজন।
বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রেদওয়ানুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন রংপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান বেলাল এবং সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর|
সিডস ও সাদাকাহ এর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আবুল খায়ের এবং জয়নুল আবেদীন রুহেল। এসময় তারা বলেন, আমরা আশা করি আজ যাদের হাত আমরা এক করে দিতে পেরেছি তারা একেকটি আদর্শ পরিবার হবেন। যৌতুক বিহীন বিয়ে যে চাইলেই সম্ভব এই বিয়ে অনুষ্ঠান তার প্রমাণ। বর্তমান সময়ে বিয়ে এক কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নবী করীম( সা:) বিয়ে সহজ করতে বলেছেন আমরা চেষ্টা করছি বিয়েকে সহজীকরণের
দেশবরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও টিভি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাহ ওয়ালীউল্লাহ বিয়ের খুতবা দেন এবং এক এক করে ৬৩ টি বিয়ে পড়ান। পরে সবার সুখ ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয় এবং বিয়ের অতিথিদের জন্য মধ্যহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।বিয়েতে নতুন সংসার করার মতো সামগ্রী উপহার দেয়া হয় বর কনে উভয়কে।