শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগে শিক্ষা বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলার ১৩৬টি বিদ্যালয়ের ওয়াসব্লক প্রকল্প থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মের খবর সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল ‘দৈনিক সিলেট সংবাদ’ পত্রিকায় দুর্নীতির বিস্তারিত খতিয়ান প্রকাশের পর বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট’-এ পরিণত হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে ভুক্তভোগীরা আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে ২৫টি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সংবাদমাধ্যমে এসব অভিযোগ হুবহু প্রকাশিত হওয়ার পর নেট দুনিয়ায় তা ভাইরাল হয়। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে এই উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির এক অদৃশ্য সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ১৩৬টি বিদ্যালয়ের ওয়াসব্লক (ডধংয ইষড়পশ) নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী প্রতিটি ওয়াসব্লক থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ হওয়া সত্ত্বেও তদারকি ছাড়াই প্রধান শিক্ষকদের বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছেন। উনার ভয়ে শিক্ষকরা মুখ খুলতে সাহস না পেলেও এখন অনেকেই দুর্নীতির তথ্য নিয়ে সামনে আসছেন।
দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অভিযুক্ত আশরাফুল আলম প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চালান বলে জানা গেছে। এতে ব্যর্থ হয়ে এখন তিনি ভুক্তভোগীদের মামলা ও হামলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ‘অভিযোগ মিথ্যা’ মর্মে লিখিত নেয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি কিছু শিক্ষক নেতাকে টাকার বিনিময়ে বশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
একাধিক শিক্ষক নেতা জানিয়েছেন, আশরাফুল আলমের বিগত ৭ বছরের দুর্নীতির বিস্তারিত খতিয়ান নিয়ে এখন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষকদের একটি বড় অংশ এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই কর্মকর্তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে এটিও মো. আশরাফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনোসাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ নিজাম উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক : আইয়ুব আলী অফিস ; খান কমপ্লেক্স, সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, সিলেট। যোগাযোগ : প্রকাশক ও সম্পাদক : ০১৭৩৭-৩০৪৭৫১। ই-মেইল : sylhetbuletin@gmail.com
All rights reserved © 2025 sylhet buletin