শিরোনাম
সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের উদ্যোগে অ্যাওয়ার্ড অর্জন হারিছ আলী কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ সদর হাপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, আটক ১ দোয়ারাবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণশুনানি সম্পন্ন। সুনামগঞ্জে সময় টিভি প্রতিনিধি হিমাদ্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের রাজস্ব আয় বাড়লে নাগরিক সেবা সম্প্রসারিত হয়: সিসিক প্রশাসক আহমদ আলী (লেখক ও গবেষক) সততা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত বস্তি ও হকার উচ্ছেদ এবং পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে- বিক্ষোভ সমাবেশ ও মহা মিছিল ছাতকে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি রাজন মিয়া-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ   দোয়ারাবাজারে পরকীয়ার প্রেমে দেবর ভাবি কারাগারে একজন যুবকের গাঁজা চাষ, যুবক গ্রেফতার
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

সিলেটে নেহার-মালা-মেঘলা সিন্ডিকেটের ত্রাস: চুরির টাকায় গড়েছেন আলিশান বাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার / ১৫৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

72

সিলেটে নেহার-মালা-মেঘলা সিন্ডিকেটের ত্রাস: চুরির টাকায় গড়েছেন আলিশান বাড়ি

 

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট মহানগরীর বিপণীবিতান, হাসপাতাল আর মাজার এলাকায় এখন এক আতঙ্কের নাম ‘নারী চোর চক্র’। বছরের পর বছর ধরে সক্রিয় এই চক্রের হোতা দুই বোন মালা ও মেঘলা এবং তাদের মা নেহার বেগম। একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে তারা আবারও মেতে ওঠে পুরোনো নেশায়। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়া।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শপিং মল, জিন্দাবাজার, শাহজালাল (রহ.) মাজার এবং বড় বড় হাসপাতালের চেম্বারগুলো এই সিন্ডিকেটের প্রধান বিচরণক্ষেত্র। বোরকা পরিহিত অবস্থায় তারা সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যায়। এরপর কৃত্রিম জটলা তৈরি করে নিমিষেই টার্গেট করা ব্যক্তির টাকা, মোবাইল ফোন বা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চম্পট দেয়। শুধু চুরিই নয়, নগরীর সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সাথেও এই দুই বোনের গভীর যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানার কলারতলে আব্দুল মালেকের মেয়ে মালা ও মেঘলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় শতাধিক মামলা রয়েছে। তবে তাদের এই অপরাধ কর্মকাণ্ডে পরিবারের পূর্ণ সমর্থন ও অংশগ্রহণ রয়েছে। মালার বর্তমান স্বামী জাবেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার একটি বড় অংশের পেশা চুরি হওয়াতে অপরাধ জগতে তাদের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।

 

মালার মা নেহার বেগমের বিরুদ্ধেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। দক্ষিণ সুরমার সিলাম তেলিয়াপাড়ায় নেহার বেগমের নামে তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণ ব্যয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এলাকাবাসীর দাবি, এই সম্পদের পাহাড় গড়া হয়েছে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা আর গহনা চুরি করে। এছাড়া বোন মেঘনা ও স্বামী জাবেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ কলারতলে তাদের নামে জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায় সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী যদি তাদের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করে, তবে উল্টো পুলিশ ও প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নেহার বেগমের বোন নাজমার স্বামী সাইফুলও একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং ডজনখানেক মামলার আসামি।

 

এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং তাদের স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় আনতে এলাকাবাসী ইতিমধ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেটে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৫ জনেরও বেশি সদস্য রয়েছে।

 

সিলেটের সচেতন মহলের দাবি, এই ‘নেহার-মালা-মেঘলা’ সিন্ডিকেটকে গোড়া থেকে নির্মূল না করলে নগরীতে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। দ্রুত তদন্তপূর্বক তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ