প্রশাসনের সাথে বৈঠকে সিলেটে জ্বালানি সংকট নিরসন ::জন ভোগান্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন!
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া: সিলেট বিভাগে প্রায় ১৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ধর্মঘট প্রত্যাহারে জ্বালানি সংকটের নিরসন হয়েছে। এমনটাই বলছেন সিএনজি ও পেট্রোল মালিকরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় স্বস্তি ফিরে পেয়েছে ভুক্তভোগীরা। বুধবার রাত ধর্মঘটের ডাক দেয়ার পর আতঙ্কে ছিল সাধারণ মানুষ।
পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগে বুধবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে থেকে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে ধর্মঘট শুরু হয়। তবে ভোর রাত ৩টার দিকে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াসাদ আদনান ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তা মানেননি অনেক পাম্প মালিক। ফলে রাত থেকেই তেল ও গ্যাস বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ধর্মঘটের কারণে বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল ও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রেতা, চালক ও যানবাহনের যাত্রী সাধারণ।
হঠাৎ ডাকা এই ধর্মঘটের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ঈঠে জনমনে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আজ বিকেলে। জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে বৈঠকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রাজনৈতিক নেতাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সংকট সৃষ্টির বিষয়ে সৃষ্টির বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে
এ বার্তা। সরকার তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি তারপরও কেন সংকট। এ সংকট সিলেটের নয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা হলে কেন সিলেটে এর প্রভাব পড়ছে? এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বৈঠকে ? জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেন প্রশ্ন উঠছে অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে। তিনি অযথা কোন সম্মান মানুষকে হয়রানি না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রশাসনকে বিএনপি'র পক্ষ থেকে।
বিভিন্ন দেশে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলেও বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি করেনি জনস্বার্থে এমনটাই মিডিয়াকে জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। তারা জানান, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সরকারের কোন এজেন্সি মানুষকে হয়রানি করবে তা আমাদের মনে নয়। আবার সরকারের ক'দিনের মাথায় কেউ কোন আলোচনা ছাড়া ধর্মঘটের ডাক দিবে সড়ক অপরাধ করবে জনগণের ভোগান্তি করবে সেটাও আমাদের কাম্য নয়।
এতে পেট্রোল পাম্প মালিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।
বৈঠকে উভয়পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং চলমান সংকট নিরসনে আলোচনা করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করার আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি। এখন থেকে সিলেটের সব পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ নিজাম উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক : আইয়ুব আলী অফিস ; খান কমপ্লেক্স, সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, সিলেট। যোগাযোগ : প্রকাশক ও সম্পাদক : ০১৭৩৭-৩০৪৭৫১। ই-মেইল : sylhetbuletin@gmail.com
All rights reserved © 2025 sylhet buletin