হাওয়াচেরা বিল নিয়ে সোহেলের তেলেসমাতি!
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার হাওয়াচেরা বিল ইজারা, লিজ প্রদানের জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে অবশেষে মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন গোলাপগাও গ্রামের নতুন কুড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইছ আলীর ছেলে লেবু মিয়া। মহামান্য হাইকোর্ট রিট পিটিশন মামলা নং ৪০১/২০২৫ ইং। এই বিলটি ইজারা দিতে সিলেট জেলা প্রশাসক অফিস বিগত ২০২৪ সালে ১০ লক্ষ টাকা মূল্যর দরপত্র আহবান করে। কিন্তু কোন সমিতি সেখানে অংশ গ্রহণ করেনি বিলটি ইজারা নিতে। ২য় দফা উক্ত বিলটি ইজারা দিতে মাত্র ৫ লক্ষ টাকার দরপত্র আহবান করে জেলা প্রশাসক অফিসের রাজস্ব শাখা।
কিন্তু বিষয়টি গোপন রাখেন ডিসি অফিসের রাজস্ব শাখার অফিস সহকারি সোহেল আহমদ। যা কোন সমিতিই বুঝতে বা জানতে পারেনি।
সে সময় সোহেলের সাথে আতাঁত করে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা দরপত্র অনুকুলে লিজে অংশ নেয় স্থানীয় প্রত্যাশা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। কিন্তু সে সময় উক্ত সমিতি সরকারের অনুকুলে কোন রাজস্ব প্রদান করেনি, তার আগেই খবর পেয়ে যায় অন্যন্য সমবায় সমিতি। তখন আমরা খবর পেয়ে নতুন কুড়ির মৎস্যজীবি সমিতি পক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবরে ১০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতে প্রস্তুত বলে নতুন করে রি-টেন্ডার দেওয়ার জন্য আবেদন করি। পাশাপাশি গোপালগাঁও গ্রামের গোপালগাও মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি আমাদের মতো আরেকটি আবেদন করে। তারা ও সরকারের রাজস্ব খাতে ১০ লক্ষ টাকা প্রদানের প্রস্তাব দিয়ে আবেদন করে।
যেহেতু এর আগের বছরই আমরা খাসকালেকশনে উক্ত হাওয়াচেরা বিলটি ৯ লক্ষ ৫ হাজার ৩শ ২৫ টাকা রাজস্ব খাতে জমা প্রদান করে মৎস্যআহরণ করি। নতুন ইজারায় দেখা যায়, সরকার বিরাট অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। কিন্তু জেলা প্রশাসক অফিস আমাদের রি-টেন্ডারের আবেদন আমলে না নিয়ে তালবাহানা শুরু করে। আমরা বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে যাই। মন্ত্রনালয় থেকে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে জেলা প্রশাসক অফিসে জবাব চাইলে সময় মতো জবাব দেয়নি জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট শাখা। বাধ্য হয়ে আমরা মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলা নং ৪০১/২০২৫ দায়ের করি। আদালত আমাদের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ৯০ দিনের জন্য উক্ত বিলের ইজারার উপর অস্থায়ী নিষেজ্ঞা জারি করে আমাদের নতুন কুড়ির অনুকুলে বিলটি ইজারা দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। এবং জেলা প্রশাসককে উক্ত বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে রোল জারি করেন।
কিন্তু ৯০ দিনেও আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করায় আবার আমরা আদালতের স্বরনাপ্ন হলে আদালত ২য় বার ৬ মাসের জন্য স্থায়ী নিষেজ্ঞাজারী করে উক্ত বিলের ইজারার বিষয়ে আইনতো ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদানসহ আমাদেরকে বিলটি ইজারা প্রদানের নির্দেশ দেন। কিন্তু এবারও আদালতের নির্দেশ আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি আদালতে মামলা চলমান থাকাবস্থায় ডিসি অফিসের অফিস সহকারি সোহেল আহমদের যোগসাজসে উক্ত বিলটি ইজারা পেয়ে গেছে দূরবর্তী ‘প্রত্যাশা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি, (নইখাই কুতুবপুর খালোমুখ) দক্ষিণ সুরমা উপজেলার একটি সমিতি। এরপর আমরা ৩য় বার আদালতকে বিষয়টি অবহিত করলে আদালত এবারও আরো ২ মাসের স্থায়ী নিষেজ্ঞা জারী করেন।
পর-পর তিনবার মহামান্য আদালত সিলেট জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট জলমহাল শাখা কর্তৃপক্ষকে উক্ত হাওয়াচেরা বিলটি নতুনকুড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির অনুকুলে লিজ/ ইজারা দিতে আদেশ প্রদান করেন যে “ সরকারি জলমহাল পরিস্থিতি নীতি ২০০৯ এর ধারা ৫ (৪) (খ) অনুসারে আবেদনকারী ১০ লক্ষ এর বেশী লিজ দিতে আগ্রহী হওয়ায়, জলমহাল তফসিল ইজারা দেওয়ার জন্য বিবাদীদের ( ভূমি সচিব, সিলেট ডিসি, এডিসি, উপজেলা নির্বার্হী অফিসার দক্ষিণ সুরমা, এ্যসিল্যান্ড দক্ষিণ সুরমা ও স্বল্পমূল্য ইজারা গ্রহীতা প্রত্যাশা সমিতির ইজারাদার ইসলাম উদ্দিনকে) নির্দেশ প্রদান করেন”। কিন্তু আদালতের তিনটি আদেশের পর সেই বিষয়টি আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে মহামান্য আদালতে এখনো মামলা চলমান রয়েছে।
নতুনকুড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক লেবু মিয়া ও সমিতির সদস্য ছায়াদ মিয়া বলেন, আমারা হাওয়াচেরা বিলটির সর্বচ্চ ইজারাদার হয়ে মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর আদালত একাধিকবার আমাদের অনুকুলে বিলটি ইজারা দিতে নির্দেশ প্রদান করলে ডিসি অফিসের সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে কোন সুরহা করতে পারছিনা। এতোদিন ডিসি অফিসের রাজস্ব শাখায় কর্মরত অফিস সহকারি সোহেলের কাছে বারবার গেলে তিনি নানা রকম তালবাহানা করেন। বিষয়টি নিয়ে বারবার জেলা প্রশাসকের কাছে যেতে চাইলে কিংবা এডিসির সাথে দেখা করতে চাইলে সোহেল আহমদ আমাদের সেখানে যেতে বারণ করেন। তিনি আজ-কাল করে করে বছর পার করলেও হাওয়াচেরা বিলের লিজ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন সমাধান পাইনি আজবদি। সেই সুযোগে বিলের মাছ লুট করে নিচ্ছে বিভিন্ন মহল।
সূত্র- দৈনিক র্পযবেক্ষণ