নতুন অধ্যায়ের বার্তা নিয়ে আলোচনায় বদরুজ্জামান সেলিম
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বদরুজ্জামান সেলিম আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তবে এবার কোনো বিতর্ক নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি এবং নিজেকে নতুনভাবে রাজনীতির মাঠে উপস্থাপনের বার্তা নিয়েই সামনে আসতে চাইছেন তিনি।
বদরুজ্জামান সেলিম জানিয়েছেন, বিগত সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ও হাইকমান্ডের অনুরোধে তিনি একাধিকবার নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এবার আর ‘কুল্লুখালাস’ নয়, বরং অতীতের ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে ‘কুল্লুহালাল’ হয়ে নতুন উদ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে চান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেলিম বলেন, “আমি যখনই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছি, তখনই অনুরোধের বার্তা এসেছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ হোক কিংবা সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদ—সব ক্ষেত্রেই দলীয় সিদ্ধান্ত ও হাইকমান্ডের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত আমাকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে।”
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমি যখনই নির্বাচনী ট্রেনযাত্রা শুরু করেছি, তখনই আমার সেই ‘ডিস্টার্বেন্স বন্ধু’ আমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে গেছেন। সিটি করপোরেশন কিংবা সিলেট-৪—সব জায়গাতেই তিনি আমার পথের বাধা হয়েছেন। তবুও দলীয় আদেশ মেনে আমি সবসময়ই তাকে ছাড় দিয়ে এসেছি।”
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি জানান, যেহেতু আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে সিলেট-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন, সেহেতু আগামী সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেলিম।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আগে দলীয় নির্দেশ ও বিভিন্ন অনুরোধের কারণে নির্বাচনে অংশ নেইনি। কিন্তু এবার আর কোনো অনুরোধের আসর গ্রহণ করব না।” সব মিলিয়ে, বদরুজ্জামান সেলিমের রাজনীতির এই নতুন অধ্যায় কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে—তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার এই ঘোষণায় সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
উল্লেখ্য, বদরুজ্জামান সেলিম সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিব ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।