শিরোনাম
হরিরামপুরে বয়ড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত । গোয়াইনঘাটে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন এজাহার ভুক্ত আসামি গ্রেফতার ৮ ভোলায় গ্রাম বাংলা জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় যানজট নিরসনের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় ক্রীড়া উৎসব  কানাইঘাটে থানার দালাল সফিরের ক্ষমতার বাহাদুরি গোয়াইনঘাটে স্থানীয় পুলিশের ‘লাইনম্যান’ পরিচয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি নেপথ্যে কামাল ও আল-আমিন- গোয়াইনঘাটে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসে অমর. সীমিত আয়ের মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে ত্রাস হিসাবে মুর্তিমান আতংক ছিলেন মার্জিনা

স্টাফ রিপোর্টার / ৪৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে ত্রাস হিসাবে মুর্তিমান আতংক ছিলেন মার্জিনা

 

তার নাম মার্জিনা আক্তার। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ি-ডেমরা, কোনাপাড়া, এলাকায় মহিলা কিলার হিসাবে সকলের কাছেই পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে জনসাধারণের কাছে ত্রাস হিসাবে মুর্তিমান আতংক ছিলেন এই মার্জিনা। একাই নিয়ন্ত্রণ করতেন যাত্রাবাড়ি-ডেমরা থানা মহিলা আওয়ামী লীগ। একই সাথে ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগের তিনটি ওয়ার্ডের সভাপতি। স্থানীয় স্থানীয় একাধিক এমপির সাথে অনৈতিক সম্পর্ক থাকায় সব সময় ক্ষমতা ছিলো তার হাতের নাগালে। ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু মর্জিনা আগের মতোই বহাল আছেন। নিজের কাঁদে তুলে নিয়েছেন পালাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ সম্পদ দেখাশুনা ও রক্ষনা বেক্ষণের দায়িত্ব। দলীয় কর্মসূচী পালন করতে পালাতক নেতাদের কাছ থেকে নিচ্ছেন নগদ অর্থকড়ি। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই যাত্রাবাড়ি, ডেমরা থানায় বৈঠকে বসছেন ছাত্র-জনতার উপর হামলা-খুন ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে। মামলার চার্জসীট থেকে নাম কর্তনে দরদাম হাকছেন।

 

এই সুযোগে অনেক পুলিশ সদস্য মর্জিনার রূপ যৌবনের সুধা পানের সুযোগ ও পাচ্ছেন। তাই মর্জিনার বিরুদ্ধে কোন আইনতো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাকে সব রকম সুযোগ সুবিধা করে দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। মার্জিনার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার, বেতিয়া পাড়া গ্রামে। পিতার নাম মোঃ বতু মিয়া, মর্জিনার জাতীয় পরিচয় পত্র নং-৯১৪৮৩২৪২০৬। পিতা বতু নিম্ন আয়ের একজন মুদি দোকানদার। বেশ কয়েক বছর আগে জিবিকার টানে স্বপরিবারে বতু মিয়া ঢাকা আসেন। বসবাস শুরু করেন ঢাকার ডেমরা থানার পাড়াডগাইর নতুনপাড়া মসজিদ রোডের ৬৩ নং বাসায়। মার্জিনার পিতা বতু এখন কোনাপাড়ায় একটি মুদি দোকান দিচ্ছেন।

 

তবে নিজের রূপযৌবনকে কাজে লাগিয়ে এক সময়ে ব্যাটারি রিক্সাচালক মার্জিনা হয়ে যান, ঢাকার ডেমরা থানা মহিলা আওয়ামী লীগের ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নং ওয়ার্ডের সভানেত্রী। বিগত সরকারের শাসন আমলে মার্জিনা আক্তার একটি বাহিনী গড়ে যাত্রাবাড়ি, মাতুয়াইল. ডেমরা, শনির আখড়া, কোনাপাড়া এলাকায় নানা রকম অপকর্ম করেন। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট ছিলো স্থানীয় লোকজন। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও মার্জিনা ও তার বাহিনীর সদস্যরা যাত্রাবাড়ি, মাতুয়াইল ডেমরা, শনির আখড়া, কোনাপাড়া এলাকায় এখনোও আধিপত্ত্ব্য ধরে রেখেছে। মার্জিনা বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপ, জবর দখল, বহু বিবাহের নামে প্রতারণা, বিভিন্ন নারী দিয়ে সাধারণ ব্ল্যাকমেইল করাসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে আত্মগোপনে থাকা পালাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে নিরাপদে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগ। মর্জিনা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পতন আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে ছাত্র-জনতার উপর অর্তকৃত ভাবে হামলা, হত্যা, খুনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলো। কোনাপাড়া এলাকার গাড়ির স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতো বলে স্থানীয়রা জানান।

 

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এই মর্জিনা আক্তার প্রকাশ্য ঢাকা শহরের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করতে ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, মাতুয়াইল, কোনাপাড়া থেকে লোক নিয়ে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয় মার্জিনাসহ তার পরিবারের সদস্যরা। সেই সাংবাদিক আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

 

বিশেষ মার্জিনা আক্তার ঢাকা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী, ঢাকা-৫ আসনের এমপি ও ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল, ডেমরা থানার ৬৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ নেতা সামসুদ্দিন ভূইয়া সেন্টু, সাবেক এমপি সজল মোল্লার পিএস সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুসহ যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নং-১১/৭৯৭ তাং: ১৯ জুলাই ২০২৪ এবং মামলা নং-৫৬/৮৪২ তাং-৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দায়েরকৃত হত্যা মামলার সকল আসামীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামলার চার্জসিট থেকে তাদের নাম বাদ দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মার্জিনা। এছাড়া উক্ত মামলার এজাহারভূক্ত প্রায় ২০/২৫জন আওয়ামীলীগ নেতার সকল অবৈধ টাকা ও অবৈধ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে মর্জিনা আক্তার, তার বোন ও ভাই। মার্জিনার ভাইয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে আওয়ামী লীগ আমলে মন্দিরের নাশকতা ও চুরির মামলা।

 

বর্তমানে তারা যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মাতুয়াইল, কোনাপাড়া এলাকার আওয়ামী লীগের সকল অনৈতিক, নাশকতামূলক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণসহ সকল প্রকার অর্থযোগান আসছে এই মর্জিনা আক্তারের মাধ্যমে। মর্জিনা আক্তারের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে ছিলো প্রকাশ্য অন্যর ভূমি দখলের অভিযোগ, টেন্ডারবাজী, নারি দেহ ব্যবসা ও মাদক ব্যবসা, একাধিক বিয়ে করে প্রতারণা করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়া। বিভিন্ন মেয়েদের দিয়ে নিরীহ মানুষদের ব্ল্যাক মেইল করা, আওয়ামীনেতাদের নারী সাপ্লাইসহ বড় একটি ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই মর্জিনা আক্তার একাধিক বিয়ে করেছেন। ২০০৫ সালের ৮ জুলাই বিয়ে করে আলী আহম্মেদ টুটুল (পিতা: সুজা মিঞা, ঠিকানা: ২৩৫/১৪ শাহাজালাল রোড়, মাতুয়াইল, কোনাপাড়া, বাড়ি নং-৪, লেন নং-৫, ডেমরা, ঢাকা) কে। এরপর একাধিক অনৈতিক সম্পর্কে ধরা পড়লে টুটুলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিগত ১৮ জুলাই ২০২১ইং তারিখে নিজেই তালাক প্রদান করেন মর্জিনা যাহার (তালাক বালাম নং-০৭/ডি/২০২১, পৃষ্ঠা নং ৩২)। এই সংসারে মর্জিনার ২টি পুত্র সন্তানও রয়েছে। একাধিক সম্পর্কের পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে আরও জানা যায় যে,ঢাকা ডিএমপিতে কর্মরত এক পুলিশ সদস্যকে ব্ল্যাকমেইল করে মজির্না বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তার বিবাহের নিকাহনামায় নিজেকে কুমারি /অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে পূবের্র বিবাহ ও সন্তানের কথা গোপন করে দুই সন্তানের জননী হয়েও ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় বিয়ে করেন (যার নিকাহনামা পৃষ্ঠা নং ৩৪, বালাম নং-০৩/এ)।

 

ঐ পুলিশ সদস্যকে ব্ল্যাকমেইল করে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবে তার কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয় মার্জিনা আক্তারসহ তার পরিবার। সেই পুলিশ সদস্যকে জিম্মী করে মর্জিনাসহ তার পরিবার প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্থানীয় অনেকে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সেই পুলিশ স্বামী মর্জিনা আক্তারের অনৈতিক সম্পর্ক ও অসামাজিক কাজে বাধা, অবাধ চলাফেরায় বাধা প্রদান করায় তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্য মারধর করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে নিজেই তালাক প্রদান করে মর্জিনা আক্তার।

 

অপরদিকে সেই পুলিশ সদস্য যাতে কোন প্রতিবাদ করতে না পারেন সে জন্য তার বিরুদ্ধে দিয়েছে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ, এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্ধারা। এসব কর্মকান্ডের প্রমানাধি রয়েছে পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে, যাহা তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে বলে স্থানীয়রা জানান।নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মার্জিনার রয়েছে একাধিক জমির প্লট খরিদ করেন। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ছাত্র আন্দোলনের সময়ে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ডেমরা ও কাজলা রোড বিদ্যুৎ অফিসের পাশে খুন হন কলেজ ছাত্র মো:সাকিব হাসান। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর সাথে থেকে মহিলা আওয়ামী লীগের নের্তৃত্ব দেয় এই মর্জিনা আক্তার তার বোনসহ তার গ্রুপের সদস্যরা। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ি থানায় হত্যা মামলা হলেও আশ্চর্য জনক ভাবে মামলায় নেই মর্জিনা আক্তার বা তার ভাই-বোন কারো নাম। একই ভাবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার পুলিশ বক্সের সামনে ছাত্র জনতার উপর হামলার ঘটনায় একাধিক হামলার ঘটনায় মর্জিনা বাহিনী নেতৃত্ব দেয়। জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী ডেমরাসহ আশপাশ এলাকায় যে কয়েকটি হত্যা-খুন ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিটি ঘটনার সময় সামনের সারিতে থেকে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে এই মর্জিনা আক্তার বাহিনী।

সূত্র- দৈনিক র্পযবেক্ষণ

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ