সিলেটের ডিসিকে সরিয়ে দিলে কার লাভ !
সিলেটের বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সরোয়ার আলম নিজে কোন দূর্নীতি করেন না। আবার কোন দূর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেন না। তার স্পষ্ট কথা, আমার কাছে কোন অবৈধ তদবির নিয়ে কেউ আসবেন না। এমনকি আমার আত্মীয় পরিচয়ে কেউ কোন অবৈধ তদবির নিয়ে আমার বাসা যাওয়া সম্পন্ন নিষিদ্ধ। এমন ঘোষণা দিয়েছেন তিনি সিলেটে যোগদানের পরই। নিজের মতো করে তালিকা অনুযায়ী শুরু করেন বিভিন্ন অপরাধ, দূর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে সাড়াসি অভিযান। ফলে মাথায় হাত পড়ে জেলার অসাধু ব্যবসায়ী, বালু-পাথর লুটকারী, অসামাজিক হোটেল ব্যবসায়ী, সরকারি দপ্তরে ঘাপটি মেরে থাকা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের। যারা এতো দিন কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেলো তাদের বিভিন্ন দূর্গে জমদূতের মতো হানা দিতে থাকেন সরোওয়ার আলম। বাদ পড়েনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূর্নীতি বিরুদ্ধে অভিযান, বিভিন্ন উপজেলার সরকারি হাসপাতালের দূর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান। তালিকা করে শুরু করেন সরকারি জবর দখলকৃত জমি উদ্ধারে অভিযান।
জেলার সকল অপরাধ নির্মূলে বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি অফিস পরিদর্শন করছেন। শুক্রবার হলে ছুটে যাচ্ছেন নগরীর বিভিন্ন মসজিদে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি আধুনিক শহর ঘটনের সর্বমহলের সহযোগী যাচ্ছেন। বিশেষ এই কয়েকদিনে মো.সরোওয়ার আলম বেশ কয়েকটি সাড়াসি অভিযানে নজর কাড়েন সিলেটবাসীর।নিজের অধিনে থাকা সকল প্রতিষ্টানে একাধিকবার অভিযান দিয়ে স্বচ্চতায় নিয়ে আসতে বিরামহীন ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দূর্নীতি প্রতিরোধ করতে গিয়ে এই কয়েক দিনে পেয়েছেন পরপর তিনটি উকিল নোটিশ। এইসব কিছুকে পিছনে ফেলে যখন সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন বিরামহীন ভাবে ঠিক সেই সময়ে মাথা খারাপ হতে থাকে সরকারি জমি জবর দখলবাজদের। যারা শত-শত একর সরকারি জমি জবর দখল করে গড়ে তুলেছেন আবাসন প্রকল্প। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর কান্ডের পরপরই সিলেটে যোগদান করেন সারোওয়ার আলম।
এ সময় অনেক রাগব বোয়ালদের মাথা খারাপ হতে থাকে। কারণ জেলা প্রশাসনের তদন্ত টিম ও দুদকের তদন্তে উঠে আসে অনেক রাগব বোয়ালের নাম। সেই তালিকা ছিলেন সিলেটের কয়েকজন সাংবাদিকও জড়িত। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রেফতারও হন। সেই আতংক চিরধরে রাগব বোয়লের মাঝে। এর আগে জাফলংয়ে প্রায় ২ শত কোটি টাকার পাথর লুটপাট হয়। সেটি নিয়ে একটি মামলা করে পরিবেশ সেই মামলায় আসামী ছিলেন সেখানকার অনেক রতি-মহারতি। বন্ধ হয়ে যায় সিলেটের তিনটি পাথর কোয়ারী থেকে অবৈধ বা-পাথর লুট। বন্ধ করে দেওয়া হয় জাফলং এলাকার শতাধিক ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুতিক লাইন। এরপর থেকে তার নিজের অফিসসহ জেলার কয়েকটি মহলের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠেন সরোওয়ার আলম। বিশেষ করে বিল-জলমহাল শাখার দুর্নীতি, পাথর কোয়ারীর বালু-পাথর লুট-পাট, সরকারি জবর দখলকৃত জমি উদ্ধার, অনিবন্ধিত গাড়ি চলাচল বন্ধ, নগরীর ফুটপাত উচ্চেদ, সিলেট নগরীর সরকারি জবর দখলকারীদের কাছ থেকে সরকারি খাস খতিয়ানের জমি উদ্ধার করতে মাঠে নামেন তিনি। এরমধ্যে কয়েকটি গ্রুপ সঙ্গবদ্ধ ভাবে একটি শক্তিশালি চক্রে রুপান্তরিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ভিতরে-ভিতরে শুরু করে নানা রকম অপপ্রচার।
জেলা প্রশাসক (ডিসি)কে সরাতে তারা গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সিলেটের দরগা মহল্লার একটি অভিজাত হোটেল বসে বৈঠক করে। সেখানে যোগদেন সিলেট নগরীর কয়েকটি বালু-পাথর লুটকারী চক্র, কোম্পানীগঞ্জ, জাফলং, ভোলাগঞ্জের তিনিটি চক্রের প্রতিনিধি, নগরীর আবাসিক হোটেলের ব্যবসায়ী, হাউজিংয়ের আড়ালে সরকারি জমি দখলবাজ চক্র। জেলার চোরাকারবারিচক্র, বিল-জলমহাল জালিয়াত চক্র, ওসমানী মেডিকেল ওওসমানী বিমান বন্দরের দুটি দূনীর্তিবাজ সিন্ডিকেট, জেলার ক্রাশার মালিক গ্রুপের প্রতিনিধি। তারা সেদিন নির্দিষ্ট একটি বাজেট উত্তোলন করতে দুজনকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এরপরে সপ্তাহে সেই কাঙ্খিত বাজেট সংগ্রহ করা হয়। বর্তমান জেলা প্রশাসক সরোওয়ার আলমকে সরিয়ে দিয়ে নতুন করে তাদের পছন্দমতো একজন ডিসিকে সিলেটে নিয়ে আসবেন। সেই টাকা সিলেটের দুইজন ব্যক্তি মাধ্যমে যাবে ঢাকায় জনৈক উপদেষ্টার দপ্তরে। সেখান থেকে তাদের পছন্দমতো জেলা প্রশাসক সিলেটে নিয়ে আসা হবে। তিনি পাথর কোয়ারী খোলে দিবেন। এ সংক্রান্ত সকল মামলা থেকে অভিযুক্তদের মুক্ত করবেন। যদি নির্বাচন হতে দেরি হয় এর মধ্যে তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাবে।
কিন্তু এরমধ্যে সরকার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে দিলে তাদের ডিসি বদলীর কাজে ভাটা পড়ে যায়। তারা মরিয়া হয়ে উঠে কি ভাবে ডিসি সরোওয়ার আলমকে সিলেট থেকে সরানো সম্ভব হয়। হঠাৎ করে চলতি সপ্তাহে নির্বাচনের মনোয়নয়ন নিয়ে একটি গুজব ছড়ায় একটি বিশেষ মহল। সেই সুযোগে চক্রটি কিছু ভুয়া ফেইসবুক পেইজ বেঁচে নিয়ে সেই গুজবকে বাস্তবতায় নিয়ে আসতে চায়। তারা ইস্যুরো প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধতা যাচাই-বাছাইকে। সেই ফাঁদে পা দেয় এনসিপি। সুযোগ বুঝে কুপমারে ঘাপটি মেরে থাকা চক্রটি। দিনভর তারা গুজব ছড়ায় যে এবার ডিসির বদলী হয়ে যাবে। ঐ দিনই ঢাকায় যায় ডিসি সরানোর নেপথ্যে থাকা চক্রের ৩ সদস্য। কিন্তু দিন শেষে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
ঐদিন বিকালে সংবাদ মাধ্যমে ডিসি স্পষ্ট করেন বিষয়টি, ১০ কোটি নয়, ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও আমাকে কিনতে পারবেন না বলে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেছেন, আমি এত সস্তা না। গত বুধবার ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ চ্যালেঞ্জ দেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বক্তব্য দেওয়া হয়েছে আমাকে ১০ কোটি টাকা দিয়ে কোনো এক প্রার্থী কিনে নিয়েছেন। এ নিয়ে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আমি স্পষ্ট বলতে চাই ১০ কোটি নয়, এক টাকা আমাকে কেউ ঘুষ দিয়েছেন এমন প্রমাণ দিতে পারলে যে কোনো শাস্তি আমি মেনে নেব।
তিনি বলেন, ১০ কোটি নয়, ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও আমাকে কেউ কিনতে পারবেন না এটা বিশ্বাস রাখতে পারেন। তিনি আরো বলেন, এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর এ ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। আমাদের সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে কি কি কারণে দ্বৈত নাগরিকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। দ্বৈত নাগরিক তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এরমধ্যে এম.এ.মালিক সাহেব পরদিন তার সলিসিটর ফার্মের মাধ্যম থেকে নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার প্রমাণপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু এনসিপির প্রার্থী এশতেহাম হক কোনো প্রমাণপত্র জমা দেননি। তাই তারটা বাতিল হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো আবকাশ নেই। তবুও আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল করলে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া জমা দেওয়া দ্বৈত নাগরিকত্ব সারেন্ডারের কাগজপত্র যাচাই করা হবে। যদি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েও যান আর যুক্তরাজ্যের হোম অফিস থেকে আমরা সত্যতা না পাই। তাহলে তার এমপি পদও চলে যাবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ নিজাম উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক : আইয়ুব আলী অফিস ; খান কমপ্লেক্স, সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, সিলেট। যোগাযোগ : প্রকাশক ও সম্পাদক : ০১৭৩৭-৩০৪৭৫১। ই-মেইল : sylhetbuletin@gmail.com
All rights reserved © 2025 sylhet buletin