বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা: সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কে এই যুবলীগ নেতা
সিলেটে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর নামে বিভিন্ন জাল কাগজ, ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট, সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণার অভিযুক্ত নগরীর জিন্দাবাজারের ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ডের ফেইথ এসোসিয়েটের কর্ণধার দুই সহোদর মো. মাছুম আহমদ ও মো. আব্দুর রহমান। দুই সহোদর সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার খর্দাপাড়া এলাকার হেলাল আহমদের ছেলে। বর্তমানে তারা নগরীর উপশহর এলাকার গার্ডেন টাওয়ারে বসবাস করছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে স্টুডেন্ট ভিসায় সিলেটের শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর নামে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা একাধিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে সিলেটের সাংবাদিক পরিচয়দানকারী একজনে নামও এসেছে তাদের সাথে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে সিলেট প্রেস। মিলেছে সত্যতা।
অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে মিলেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দুই সহোদরের শেল্টারদাতা হলেন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী জেলা যুবলীগের এক যুবলীগ নেতা। যিনি আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি ২০২৪ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উপজেলা যুবলীগের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পর সেই জেলা যুবলীগ নেতা গা ঢাকা দেন সিলেট নগরীর উপশহর এলাকার গার্ডেন টাওয়ারের মো. মাছুম আহমদ ও মো. আব্দুর রহমানের ফ্ল্যাটে। নিজের ফেসবুক থেকে মুছেফেলেন অতীতের সব অপকর্ম। দীর্ঘদিন গা গা ঢাকার পরে সেই জেলা যুবলীগ নেতা সুযোগ বুঝে সিলেটের একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পান। ক'দিন কাজ করেন। পরে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে সেখান থেকে ছুটি দিয়ে দেয়। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঐতিহ্যবাহী সেই পত্রিকার পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ফেইথ এসোসিয়েটের মো. মাছুম আহমদ ও মো. আব্দুর রহমানকে যিনি শেল্টার দিচ্ছেন তিনি হলেন সিলেট যুবলীগ কর্মী জয় রায় হিমেল। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার দায়ে অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজের বন্ধু ও রাহেল সিরাজের মিডিয়া ওইং।
এদিকে, ফেইথ এসোসিয়েটের মো. মাছুম আহমদ ও মো. আব্দুর রহমান সিলেটের শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর নামে তারা প্রতারণা করে এসব টাকায় বানিয়েছেন গোলাপগঞ্জে বাড়ি, গাড়ি, সিলেট নগরে রেস্টুরেন্ট, অফিস ও ফ্ল্যাট। তারা অতীতেও প্রতারণার অভিযোগে কারা বরণও করেছেন। বর্তমানেও তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চেক জালিয়াতির একাধিক মামলা চলমান। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন- তারা সিলেটের কয়েকজন অ্যাডভোকেট ও কয়েকজন সাংবাদিকদের নাম প্রকাশ্যে ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। সিলেটের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের টাকায় কাটছে তাদের আয়েশি জীবন। ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ফেরত চাইলে তাদের চক্রের সিলেটের সিনিয়র কজন সাংবাদিক ও অ্যাডভোকেট এবং সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে আপোষে মিমাংশা করার কথা বলেও করছেন প্রতারণা। টাকাতো ফেরত দিচ্ছেন না, বরং আজ কাল করে সময় ক্ষেপণ করছেন। একাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানের নামে চেকও প্রদান করেছেন। তবে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরৎ দিচ্ছেন না। আর এসবের সবকিছুর শেল্টারদাতা জেলা যুবলীগ নেতা জয় রায় হিমেল।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের দুটি পেজ 'স্টার টিভি' ও নিউজ ২৪ নামক দুটি পেজ যার এডমিন জেলা যুবলীগ নেতা জয় রায় হিমেল। এসব পেজ ব্যবহার করে সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার এবং মো. মাছুম আহমদ ও মো. আব্দুর রহমানের অপকর্ম লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
অপরদিকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে গোলাপগঞ্জ উপজেলা এক সিনিয়র সাংবাদিক জানান, জয় রায় হিমেল-সে কোনো সাংবাদিক না। সে উপজেলা যুবলীগের এক নেতা।
সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজের বন্ধু ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার সব আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগের মিডিয়া ওইং। ২০২৪ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উপজেলা যুবলীগের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলো।
আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পর সে গা ঢাকা দেয়। বর্তমানে তাকে বিএনপির এক নেতা টিকিয়ে রেখেছেন।অঞ্চলিক সেই ঐতিহ্যবাহী পত্রিকার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জয় রায় হিমেল নামে তাদের কোনো রিপোর্টার নেই। কেউ যদি তাদের পত্রিকার নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করে তাকে আটক করে কর্তৃপক্ষ জানানোর জন্য অনুরোধ করেছেন সেই কর্মকর্তা।
এটা মূলত দুই সহোদরের প্রতারণার প্রধান কৌশল। আর তাদের সব অপকর্মে সহযোগীতা করে চলছেন জেলা যুবলীগ নেতা জয় রায় হিমেল। বিনিময়ে প্রতারণার একটি অংশ পান তিনি।
আমান এসোসিয়েট ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালক মো. বদরুজ্জামান তানভীর বলেন, স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর নামে বিভিন্ন জাল কাগজ, ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট, সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছে ওরা দুই ভাই। কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওরা। এরদোষ আমার উপর দিচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে ওরা মামলাও করেছে। আমি আইনি লড়াই করছি তাদের বিরুদ্ধে। তাদের চক্রের এক সাংবাদিক (তাদের ভাই) এবং জেলা যুবদলের রাসেলকে দিয়ে আমাকে তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি আমি যুবদলের সিনিয়র নেতাদের এবং সেই সাংবাদিকের বিষয়ে সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিকদের অবগত করছি।
সূত্র সিলেট প্রেস
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ নিজাম উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক : আইয়ুব আলী অফিস ; খান কমপ্লেক্স, সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, সিলেট। যোগাযোগ : প্রকাশক ও সম্পাদক : ০১৭৩৭-৩০৪৭৫১। ই-মেইল : sylhetbuletin@gmail.com
All rights reserved © 2025 sylhet buletin