গোয়াইনঘাটে চোরাচালান সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে গুলিবর্ষণ, আ হ ত ১
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি :সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় চোরাচালান সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণের এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির হাতে চোরাইপণ্য আটক হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক চোরাকারবারীর ভাই তাদেরই এক কর্মচারীর পায়ে গুলি করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে গোয়াইনঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লাঠি গ্রামের চিহ্নিত চোরাকারবারী মনির উল্লাহ মেম্বারের পুত্র হুমায়ুনের মাধ্যমে আনা বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য বিজিবি আটক করে। ওই সময় পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তারুখাল (তবদিল লাঠি) গ্রামের সাজিদুর রহমানের পুত্র আসুক মিয়া (২৭) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হুমায়ুনের অধীনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চোরাইপণ্য আটকের বিষয়ে ‘আলোচনার’ কথা বলে হুমায়ুন আসুক মিয়াকে লাঠি গ্রামের নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ুনের ছোট ভাই এমরান। একপর্যায়ে চোরাইপণ্য আটক হওয়ার জন্য আসুক মিয়াকে দায়ী করে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হুমায়ুনের ইঙ্গিতে তার ভাই এমরান হাতে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে আসুক মিয়ার পায়ে এক রাউন্ড গুলি করেন। একই সঙ্গে আতঙ্ক ছড়াতে আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে আসুক মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত হুমায়ুন আহত আসুক মিয়াকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে আহত ব্যক্তি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় হত্যাচেষ্টাসহ অবৈধ অস্ত্র আইনে গুরুতর অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এড়িয়ে যেতে অবৈধ অস্ত্রটি সাময়িকভাবে সালিশকারীদের কাছে জমা দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, চোরাকারবারী হুমায়ুন সালিশকারীদের কাছে তার ভাই এমরানকে হাজির করা ও অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে আগামী ১১ জানুয়ারি (রবিবার) পর্যন্ত সময় নিয়েছেন।
আইন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালানোর মতো ঘটনা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।
সচেতন মহলের আশঙ্কা, এ ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে গোয়াইনঘাটে চোরাচালান ও অস্ত্রসন্ত্রাস আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এমরানের ভাই হুমায়ুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, “মারামারির বিষয়টি আপসে সমাধান হয়েছে। আমার কাছে স্টাম্প রয়েছে। কিছু মানুষ টাকা খাওয়ার জন্য এসব করছে।
রবিবার পর্যন্ত সালিশ থেকে সময় নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।