শিরোনাম
সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের উদ্যোগে অ্যাওয়ার্ড অর্জন হারিছ আলী কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ সদর হাপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, আটক ১ দোয়ারাবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণশুনানি সম্পন্ন। সুনামগঞ্জে সময় টিভি প্রতিনিধি হিমাদ্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের রাজস্ব আয় বাড়লে নাগরিক সেবা সম্প্রসারিত হয়: সিসিক প্রশাসক আহমদ আলী (লেখক ও গবেষক) সততা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত বস্তি ও হকার উচ্ছেদ এবং পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে- বিক্ষোভ সমাবেশ ও মহা মিছিল ছাতকে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি রাজন মিয়া-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ   দোয়ারাবাজারে পরকীয়ার প্রেমে দেবর ভাবি কারাগারে একজন যুবকের গাঁজা চাষ, যুবক গ্রেফতার
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

পুলিশের নাকের ডগায় মাদক বেচাকেনা, নীরব মুগদা থানা—অভিযোগের পাহাড়, প্রশ্নবিদ্ধ নজরদারি

স্টাফ রিপোর্টার / ১১৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬

63

পুলিশের নাকের ডগায় মাদক বেচাকেনা, নীরব মুগদা থানা—অভিযোগের পাহাড়, প্রশ্নবিদ্ধ নজরদারি

 

ডেস্ক  নিউজ::রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় প্রকাশ্য মাদক বেচাকেনা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানার আশপাশসহ একাধিক ‘হটস্পট’-এ দিনের পর দিন ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা চললেও কার্যকর অভিযান চোখে পড়ছে না। এতে পুলিশের নজরদারি ও দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন উঠেছে।

হটস্পট চিহ্নিত, তবু কেন নীরবতা?স্থানীয় সূত্র জানায়,মানিকনগর বালুর মাঠ, মান্ডা, মদিনাবাগ এবং বিশ্ব,রোড সংলগ্ন মান্ডার অলিগলিতে মাদকের আখড়া মান্ডা প্রথম গলিতে সমান্তরালভাবে গাঁজা, ফেনসিডিল, হিরোইন ও ইয়াবার বেচাকেনাও জমজমাট স্থানীয় বিপথগামী যুবদল ও বিএনপি কর্মীরা এ অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। মানিকনগর, আনন্দধারা, ব্রিজের গোড়ায়, ফেনসিডিল, হিরোইন ও ইয়াবার বড় আখড়া নিয়ন্ত্রণ করছেন এই বিপথগামী নেতারা মদিনাবাগের ময়লার ডিপু এলাকাও এখন পরিচিত “মাদক আখড়া” হিসেবে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিনই এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক বিক্রি হয় মাদকের কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে, অনেক উঠতি যুবক ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। প্রায় প্রতিরাতেই এসব আসরকে কেন্দ্র করে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে, মাদক ও চক্র প্রতিদিন পুলিশ কিছু প্রভাবশালী নেতা ও কথিত হলুদ সাংবাদিকদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে থাকে। এর বিনিময়ে পুলিশ লোক দেখানো মাদকবিরোধী মিটিং করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না, এক সিন্ডিকেট সদস্য সরাসরি স্বীকার করেছে, আমরা থানাকে টাকা দেই, দলের প্রোগ্রামে কিশোর গ্যাং সরবরাহ করে মিছিলে পাঠানো হয় এলাকাগুলোতে সকাল থেকে মধ্যরাত মাদক কারবারিদের আনাগোনা বাড়ে। নির্দিষ্ট কয়েকজন বিক্রেতা নির্দিষ্ট সময়ে অবস্থান নেয়—এ তথ্য স্থানীয়দের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’। তবু নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বা ধারাবাহিক অভিযানের প্রমাণ মিলছে না বলে অভিযোগ।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন,

“প্রতিদিন একই মুখ, একই জায়গা। ক্রেতা আসে, নেয়, চলে যায়। পুলিশ মাঝে মাঝে দেখা যায়, কিন্তু এই জায়গাগুলোতে কোনো তৎপরতা নেই।”

আরেক বাসিন্দার দাবি,

“ছোটখাটো অভিযানে দু-একজন ধরা পড়লেও মূল হোতারা অধরা থেকে যায়। এতে সন্দেহ বাড়ছে—আসলে কি বড়দের ধরার সদিচ্ছা আছে?”

যুবসমাজ ঝুঁকিতে, নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে

অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতায় কিশোর-যুবরা ঝুঁকিতে পড়ছে। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার চলাচল সীমিত করছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।পুলিশের বক্তব্য কী?

এ বিষয়ে মানিকনগর থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও (ফোন রিসিভ হয়নি/মন্তব্য পাওয়া যায়নি)। তবে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, “অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে”—কিন্তু কবে, কীভাবে এবং কার বিরুদ্ধে—সে বিষয়ে স্পষ্টতা নেই।

প্রশ্নগুলো থেকেই যায়

চিহ্নিত হটস্পট জানা থাকা সত্ত্বেও কেন ধারাবাহিক অভিযান নেই?

কেন বারবার ছোট মাছ ধরা পড়ে, বড়রা অধরাই থাকে?নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন দৃশ্যমান ফল নেই?

এলাকাবাসী দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত, ধারাবাহিক অভিযান ও ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা পুলিশ সদর দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ