সময় থেমে থাকে না। বয়স বাড়ে, শরীর ক্লান্ত হয়। কিন্তু স্মৃতি কখনো বুড়ো হয় না। ঠিক সেই স্মৃতির হাত ধরেই সুরমা নদীর পাড়ে অবস্থিত সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আবার ফিরে এসেছিল ক্রীড়াঙ্গনের সোনালী সময়। উপলক্ষ– মোজাহিদ আলী মাস্টার্স কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে মাঠে নেমেছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী সেই সব ফুটবলাররা, যাদের পায়ের জাদু এক সময় কাঁপিয়েছে দেশের মাঠ-গ্যালারি। বয়সের ভার থাকলেও চোখেমুখে ছিল চিরচেনা আত্মবিশ্বাস, আর পায়ে ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ। মাঠে নামতেই বোঝা যাচ্ছিল, এটা শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; বরং এটি স্মৃতির পুনর্জন্ম।
ফাইনালে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক সিলেট জেলা সোনালী অতীত ও মৌলভীবাজার জেলা সোনালী অতীত। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই হয়তো এক সময় এই খেলোয়াড়দের খেলা দেখেই বড় হয়েছেন। সেই দর্শকরাই আবার ফিরে পেয়েছেন তাদের প্রিয় নায়কদের।
ফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধে ইমরাজ ইমুর দারুণ এক শটে উল্লাসে ফেটে পড়ে মাঠে ফুটবল প্রিয় দর্শকসারি। গোলটি শুধু একটি গোল ছিল না, ছিল অতীতের ঝলক। বিরতির পরও মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে সিলেট। আর ম্যাচের শেষদিকে অধিনায়ক শাহাজ উদ্দিন টিপু যখন দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান, তখন মুহূর্তের জন্য সময় যেন পিছিয়ে যায়। অনেকের চোখে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের জার্সিতে তাঁর করা সেই ঐতিহাসিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গোল্ডেন গোলের স্মৃতি।
ইমরাজ ইমু ও শাহাজ উদ্দিন টিপুর গোলে ২–০ ব্যবধানে জয় পেয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় সিলেট জেলা সোনালী অতীত। তবে হারলেও সম্মান হারায়নি মৌলভীবাজার সোনালী অতীত। একই দিনে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলতে হওয়ায় ক্লান্তি ছিল স্পষ্ট, তবুও তারা লড়াই চালিয়ে গেছেন শেষ বাঁশি পর্যন্ত।