শিরোনাম
হরিরামপুরে বয়ড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত । গোয়াইনঘাটে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন এজাহার ভুক্ত আসামি গ্রেফতার ৮ ভোলায় গ্রাম বাংলা জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় যানজট নিরসনের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় ক্রীড়া উৎসব  কানাইঘাটে থানার দালাল সফিরের ক্ষমতার বাহাদুরি গোয়াইনঘাটে স্থানীয় পুলিশের ‘লাইনম্যান’ পরিচয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি নেপথ্যে কামাল ও আল-আমিন- গোয়াইনঘাটে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসে অমর. সীমিত আয়ের মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

জাফলং সীমান্তের চোরাচালানের গডফাদার কে এই মান্নান মেম্বার!

স্টাফ রিপোর্টার / ১৬৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

জাফলং সীমান্তের চোরাচালানের গডফাদার কে এই মান্নান মেম্বার!

 

পুলিশ ও ডিবির লাইনম্যান পরিচয়ে তুলেন বখরা।

মান্নানের হাত ধরেই দেশে আসছে অস্ত্র, মাদক, কম্বল।

প্রতিবেদককে ম্যানেজ করতে না পেরে, ভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবাদ।

মান্নানের অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ বন্ধের ঠিকাদার কারা?

 

বিশেষ প্রতিনিধি :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং সীমান্তবর্তী দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ভারত থেকে আসছে অবৈধ মাদক, বিভিন্ন রকম অস্ত্র, কসমেটিকস, কম্বল, জিরা, কিট, চিনি, মটর সাইকেলসহ নানা রকম অবৈধ পণ্য। এসব চোরাচালান বন্ধ করতে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি দিচ্ছেন কঠোর নির্দেশনা। সিলেটের নবাগত পুলিশ সুপার শুনিয়েছেন আশার বাণী। গোয়াইনঘাট থানায় নবাগত ওসি কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তার নামে শুরু হয়েছে চাঁদাবাজী। এতো কিছুর পর কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা সীমান্তের চোরাচালান। টান্সফোর্সের সভায় বার-বার উঠে আসছে চোরাচালানের বিষয়টি। পুলিশের খাতায় সীমান্তের চোরাকারবারিদের গডফাদার মান্নান।

 

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, জাফলং জিরোপয়েন্ট বিজিবির ক্যাম্পের পাশেই প্রতিদিন মান্নান মেম্বারের নের্তৃত্বে বসছে ভারতীয় চোরাচালান পন্য বিক্রির হাট। যেটি এখন ভারতীয় কম্বলের হাট হিসাবে পরিচিত। এই হাট থেকে মান্নান মেম্বার থানার ওসি জেলা উত্তর ডিবির ওসি নামে লাখ টাকা বখরা তুলছেন বলে সরেজমিন ব্যবসায়ীরা

 

জানান। মান্নান ম্যানেজ মানে পুলিশ ডিবি-বিজিবি ম্যানেজ। সম্প্রতি এসব চোরাইহাটের সংবাদ প্রকাশ হলে গত ২১ ডিসেম্বর রবিবার সকালে অভিযান চালায় স্থানীয় বিজিবি। অথচ বিজির ক্যাম্প ঘিরেই মান্নান মেম্বারে চোরাইপণ্যর তিনটি দোকান। সেই অভিযানের আগের রাতেই খবর পৌঁছে যায় চোরাকারবারিদের কাছে। ফলে চোরাকারবারিরা সে দিন আগেই সরিয়ে ফেলে তাদের চোরাচালানের মালামাল। ফলে বিফল হয় বিজিবির লোক দেখানো অভিযানটি। থানা পুলিশ কিংবা উপজেলা প্রশাসন নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। এক সময়ের আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত আব্দুল মান্নান এখন বদ বদলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে।

 

এসব নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। বিজিবি সীমান্তের পাহাদার হলে তাদের সামনেই বসছে চোরাইপন্যর হাট। লোক দেখানো ডাকঢোলের অভিযান কেবল আইওয়াশ। বখরার টাকা না পেলে এমন অভিযান হয়, যাতে বখরার টাকা তাড়াতাড়ি আদায় হয়ে যায়। এদিকে জাফলং চোরাকারবারিদের গডফাদার আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার নিজের অপরাধ ঢাকতে কতিপয় কিছু সাংবাদিকদের দিয়ে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে

 

প্রতিবাদ ছাপিয়ে নিজেকে ধোঁয়া তুলসিপাতা দাবী করায়, হতবাক স্থানীয় লোকজন। একজন চোরাকারবারি নিজে পুলিশের লাইনম্যান হয়ে টাকা উত্তোলন করছে। সাংবাদিকরা টাকার বিনিময়ে তার পক্ষে সাফাই গেছে সংবাদ প্রকাশসহ প্রতিবাদ প্রকাশ করে মান্নানকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। সরেজমিন পরিদর্শন করলে মান্নান মেম্বারের চোরাচালানের বিষয়ের শতভাগ প্রমান পাওয়া যাবে। জাফলং বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই চলছে ভারতীয় পণ্যের বাণিজ্য! স্থানীয় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্ধা সাদ্দাম রুহির ছেলে আব্দুল মান্নান উরফে মেম্বার মন্নানের দুই ভাই পরিচালনা করছেন তিনটি কসমেটিকসের দোকান। তাদের দোকানে প্রবেশ করলেই দেখা যায় অধিকাংশ পণ্যই ভারতীয়। অভিযোগ রয়েছে, দোকানে অবৈধ পণ্য মজুত থাকলেও কোনো অভিযান হয় না সেখানে। মান্নান নিজেকে জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি ব্যবসায়ী দাবী করলেও চোরাচালান ছাড়া মান্নানের কোন বৈধ ব্যবসা আছে বলে কারো জানা নেই। তবে একটি পাথর মিলে সন্ধান পাওয়া যায়, যেটি এখন বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার থেকে শুরু করে সাধারণ সৈনিক পর্যন্ত প্রভাবশালী মান্নান

 

আরো পড়ুন

 

নিয়ন্ত্রনে কাজ করেন। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের ব্যবসা চলছে। মান্নান মেম্বার জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে বল্লাঘাটে কসমেটিক্সের একটি দোকানে কর্মচারী হিসাবে চাকরি করতেন। পরে নিজেই পর্যটক এলাকায় ভারতীয় কসমেটিক্সের একটি দোকান শুরু করে। এরপর সে নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হয়ে গেলে একক আধিপত্য চলে আসে মান্নানের হাতে। এরআগে চোরাকারবারের পাশাপাশি বিজিবির লাইনম্যান হিসাবে কাজ করতেন তিনি। এরপর তিনি সাবেক জেলা ডিবির ওসি ফেরায়েত উল্লাহর হয়ে চোরাচালানের টাকা উত্তোলন করতেন মান্নান মেম্বার। তবে মাঝে মধ্যে বিজিবি অবৈধ পণ্য জব্দ করলেও মালিকানা প্রকাশ্যে আসে না। পণ্যের মালিকরা থেকে যান অন্তরালে। ফলে চোরাচালান বন্ধের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সূত্র থেকে আরও জানা যায়, সীমান্ত পার হয়ে আসা ভারতীয় এসব পণ্য নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে বা রাস্তায় পুলিশের অভিযান হলে তখন সেই মাল রাখা হয় মান্নান মেম্বারের দোকানে। দিনের বেলা দোকান হলেও, আভিযানের সময় দোকান হয়ে যায় গোডাউন। অভিযান শেষ হলে দোকান থেকে অল্প অল্প করে মাল পাঠানো হয় গ্রাহকের কাছে। প্রতিরাতেই সিলেট সীমান্তে বিজিবির সামনেই নামছে চোরাচালানের পন্য। এসব চোরাচালানে শুধু ভারতীয় পণ্যই থাকছে না, আসছে অস্ত্র ও নিষিদ্ধ মাদক। কয়েকদিন আগে এরকম একটি অস্ত্রের চালান পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বিজিবি। তামাবিল, সোনাটিলা, স্থলবন্দর, নলজুড়ি, বল্লাঘাট জিরো পয়েন্ট, আমস্বপ্ন ও তালতলা, লালমাটি, নলজুরি সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় পণ্যের চোরাচালান। লালমাটি, সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প, বিজিবি ক্যান্টিন, সাইনবোর্ড, আমতলা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার। চোরকারবারি মান্নান এখন ভারত থেকে নিয়ে আসছে কম্বল, নানারকম মাদক সহ অবৈধঅস্ত্র। যা রাত হলেই প্রবেশ করছে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে এবার মান্নান প্রকাশ্য জেলা ডিবির ওসি ও থানার ওসির লাইনম্যান হিসাবে সীমান্তের সকল চোরাচালান নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিছেন। গত কয়েক মাস আগে চোরাচালানের পন্য রাখা নিয়ে দোকান মালিক তাতে বাধা দেন। এ ঘটনার জের ধরে মান্নান মেম্বার আনোয়ার হোসেন শুভ নামের ঐ স্থানীয় ব্যবসায়ীর উপর মামলা চালায়। এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সে সে মামলায় ও চোরাকারবারি হিসাবে আব্দুল মান্নানসহ, লোকমান, সিরাজুলসহ কয়েকজনকে আসামী করে মামলাটি করেছিলেন। ২০২৪ সালে ২২ অক্টোবর মান্নানসহতার সহযোগীরা আনোয়ার হোসেনের দোকানের পিছনে চোরাচালানের মাল রাখতে গেলে তিনি বাধা প্রয়োগ করেন। এ সময় চোরাকারবারীরা তার উপর হামলা করে প্রায় ৫ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আহত আনোয়ার হোসেন শুভ ৩নং জাফলং ইউনিয়নের পাথরটিলা এলাকার আবুল হাসানের পুত্র।

 

সরেজমিন জানা যায়, স্থানীয় মান্নারকে ‘ম্যানেজ’ করে ভারতীয় মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, অস্ত্র, কম্বল, চশমা, বিড়ি, চিনি, জিরা, চকোলেট, বিস্কুট, তেল, শ্যাম্পু, স্কিন সাইন ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে এনে সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় পাইকারি মূল্যে সরবরাহ করেন। মান্নানের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে নেমে আসে নির্যাতন ও নিপীড়ন। তার একটি শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে, যার নেতৃত্বে আছেন সিরাজুল। মান্নান ও সিরাজুলের নেতৃত্বে পুলিশ, ডিবি ও বিজিবির নামে চাঁদাবাজি চলে প্রকাশ্য। পুলিশ ও ডিবির নামে তোলা টাকা তিনি সপ্তাহে বুঝিয়ে দেন ওসিকে। এছাড়া ডিবির লাইনের টাকা প্রতি মাসের ১ তারিখ মান্নান বুঝিয়ে দেন ওসিকে। এসব টাকায় কিছু অসাধু সাংবাদিকও ভাগ পান বলে দাবি স্থানীয় লোকজনের।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বারে নেতৃত্বে তার সহযোগী আলোচিত চোরাকারবারিদের নিয়েই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছেন সীমান্তের চোরাচালানের গডফাদার আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার। বর্তমানে মান্নানের সঙ্গে অংশীদারিত্বে আছেন স্থানীয় সিরাজুলসহ কয়েকজন। তিনি সংগ্রাম ক্যাম্পের লালমাটি এলাকা দিয়ে দিনে-রাতে ভারতীয় অবৈধ পণ্য দেশে নিয়ে আসছেন। এছাড়া, চোরাচালানে জড়িত অন্যান্যদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন তিনি। এটাই ডিবির ও পুলিশের লাইনের টাকা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চাঁদা না দিলে মান্নান গংরা কারও পণ্য সীমান্ত পার হতে দেয় না। ফলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ব্যবসা এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের একক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় মেম্বার মন্নানের দুই ভাই পরিচালনা করছেন তিনটি কসমেটিকসের দোকান। ভারতীয় চোরাকারবারিদের কাছ থেকে জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে লাইনম্যান মান্নান মেম্বার সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে। রাত হলে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য সামগ্রী বাংলাদেশ প্রবেশ করছে। চোরাচালান ব্যবসায়ীদের নাম প্রকাশ না করা শর্তে সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ, ডিবি, বিজিবি এসব মান্নান মেম্বার ম্যানেজ করে, আমরা মান্নান মেম্বারকেক লাইনের টাকা দেই। জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের নামে লাইনম্যান হিসেবে মান্নান মেম্বার তার লোক দিয়ে টাকা আদায় করে। উল্লেখ্য, সিলেটের স্থানীয় ও জাতীয় প্রত্রিকায় চোরাচালানের গডফাদার মান্নানের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ পরিবেশন করা হলেও অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের অ্যাকশন না নেওয়ার কারণে ক্রমেই বেপোয়ারা হয়ে উঠেছে চোরাকারবারী মান্নান বাহিনী।

সূত্র দৈনিক পর্যবেক্ষণ

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ