“জাফলং সীমান্তের চোরাচালান” মান্নানের হাত ধরে আসছে কসমেটিক , কম্বল, মাদক ও অস্ত্র
বিশেষ প্রতিবেদক:: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতীয় নানা রকম পন্য। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাফলং সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে হরেক রকম অস্ত্র। এমন খবরে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে টহল বাড়িয়েছে বিজিবি। রাতের ঘণ কুয়াশায় টহল জোরদার করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। তবু উপজেলার জাফলং সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসছে হরেক রকম অবৈধ মাদক, অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ নানা রকম চোরাই পণ্য। যদিও সীমান্তের চোরাচালান বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনের উপরে প্রতিমাসে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক। তবে সেই চোরাচালানের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন জেলা উত্তর (ডিবির) ওসি, থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ। যদিও নতুন পুলিশ সুপার যোগদানের পর সকল থানার ওসিদের সতর্ক করেছেন সীমান্তের চোরাচালান নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় কালে কয়েকজন সাংবাদিক সীমান্তের হত্যা ও চোখাচালান নিয়ে বেশ জোরালো বক্তব্য রাখেন। এ সময় জেলার নবাগত এসপি সাংবাদিকদের আশ্বস্থ্য করেন চোরাচালান বন্ধ করতে তিনি সকল রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু ১০ দিন পত হলে এসপি অফিসের কোন আদেশই পৌঁছায়নি সীমান্তবর্তী থানায়। সম্প্রতি এক আদেশে জেলার সকল থানার ওসিদের রদবদল করা হয়েছে সীমান্তবর্তী থানায় যোগ দিয়েছেন নবাগত ওসিরা। তবে তারা কোন কিছু বুজে না উঠলেও তাদের নামে সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিদের কাছ থেকে বখরা আদায় করছেন লাইনম্যানরা। জাফলং সীমান্তে এক সময়ের কসমেটিকস চোরকারবারি আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার। এখন ভারত নিয়ন্ত্রন করছেন ঐ এলাকার সকল চোরাকারবার। তার মাধ্যমেই দেশে আসছে কম্বল, নানা রকম মাদক সহ অবৈধ অস্ত্র। যা রাত হলেই প্রবেশ করছে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে। স্থানীয়রা জানান, এক সময় এই মান্নান মেম্বার স্থানীয় বিজিবির নামে লাইনের টাকা আদায় করলেও এখন তিনি বখরা আদায় করছেন জেলা উত্তর ডিবির ও থানার নবাগত ওসির নামে। এসব সংবাদ বন্ধ রাখতে প্রতি সপ্তাহে কিছু সাংবাদিকের দিচ্ছেন বথরা। আবার অনেক বখরাবাজ সাংবাদিক বিভিন্ন ক্লাব ও সিনিয়ার সাংবাদিকদের নামে নিচ্ছে বখরার টাকা। ফলে সংবাদ প্রকাশ হলেই তারা মান্নানের মতো এসব চোরাকারবারিদের অভয় দিতে শুরু করেন, কাবৎ থানার ওসিদের কাছে এসব চোরাকারবারিদের রক্ষার জন্য তদবীর শুরু করেন। সম্প্রতি মান্নান মেম্বার প্রকাশ্যে জেলা (উত্তর) ডিবির ওসি ও খানার ওসির লাইনম্যান হিসাবে সীমান্তের সকল চোরাচালান নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিছেন। সম্প্রতি জিরোপয়েন্ট এলাকায় চোরাকারবারি ও এক ব্যবসায়ী পক্ষের তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হলে থানায় এজাহার দায়ের করেন ব্যবসার স্ত্রী। সেখানে তিনি ভারতীয় চোরাকারবারিদের বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ করেন। স্থানীয় থানা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে ভারতীয় মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, অস্ত্র, কম্বল, চশমা, বিড়ি, চিনি, জিরা, চকলেট, বিস্কুট, তেল, শ্যাম্পু, স্কিন সাইন ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে এনে সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় পাইকারি মূল্যে সরবরাহ করে সীমান্তের চোরাকারবারিরা। প্রশাসন ম্যানেজের দায়িত্ব নিয়েছেন চোরাকারবারি মান্নান মেম্বার। তার এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে নেমে আসে নির্যাতন ও নিপীড়ন। কারণ স্থানীয় ভাবে তার তার একটি শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে সীমান্ত এলাকায়। এই বাহিনীর নেতৃত্বে আছেন সিরাজুল ইসলাম। মান্নান ও সিরাজুলের নেতৃত্বে পুলিশ, ডিবি ও বিজিবির নামে চাঁদাবাজি চলে
প্রকাশ্য। পুলিশ ও ডিবির নামে তোলা ঢাকা মান্নান মেম্বার সপ্তাহে একদিন বুঝিয়ে দেন। এছাড়া ডিবির লাইনের টাকা প্রতি মাসের ১ তারিখ মান্নান মেম্বার বুঝিয়ে দেন ওসির হাতে। এসব টাকায় কিছু অসাধু সাংবাদিকও ভাগ পান বলে দাবি স্থানীয় লোকজনের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বারে নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছেন সীমান্তের চোরাচালানের গডফাদার আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার।
এক সময় সীমান্তে ছোটখাটো ব্যবসীরা মান্নানের সহযোগীতায় চোরাচালান ব্যবসায় জড়িয়ে রাতারাতি হয়েছেন বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক। মান্নানের সঙ্গে অংশীদারিত্বে আছেন স্থানীয় সিরাজুলসহ কয়েকজন। প্রশাসনের কিছু কতিপয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা মান্নান সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাল দেশে নিয়ে আসছে আবার দেশ থেকে ভারতে পাচার করছে দেশীয় পণ্য। স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই মান্নানের মালিকানায় রয়েছে তিনটি কসমেটিকসের দোকান। এছাড়া, চোরাচালানে জড়িত অন্যান্যদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন মান্নান মেম্বার ও সিরাজুল। প্রতিটি কাচামাল এবং বিভিন্ন কিটমাল থেকে বিচ্ছিন্ন হারে বখরা আদায় করা হয় বলে জানিয়েছেন চোরাকারবারীরা। চকলেট, কম্বল, চিরা, অস্ত্র, মাদক, কসমেটিক্সসহ নানা পণ্য আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন হারে টাকা দিতে হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চোরাকারবারিরা লাইনের চাঁদা না দিলে মান্নান মেম্বারসহ তারসহযোগীরা কোন রকম পণ্য সীমান্ত পার হতে দেয় না। সীমান্ত এলাকায় আমি ব্যবসায়ী। চোরাচালান ব্যবসা এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের একক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মান্নান মেম্বারের দুই ভাই পরিচালনা করছেন তিনটি কসমেটিকসের দোকান। তাদের দোকানে প্রবেশ করলেই দেখা যায় অধিকাংশ পণ্যই ভারতীয়। দোকানে অবৈধ পণ্য মজুত থাকলেও
কোনো অভিযান হয় না মান্নানের দোকানে। বিজিবি সংগ্রাম ক্যাম্পের পাশেই এ বাণিজ্য চললেও ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ নীরব। স্থানীয়দের দাবি, সংগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার থেকে শুরু করে সাধারণ সৈনিক পর্যন্ত প্রভাবশালী মান্নান চক্রের নিয়ন্ত্রণে। বিজিবি, ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের জরছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের ব্যবসা করছে মান্নান মেম্বার। বিশেষ করে পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা জাফলং জিরো পয়েন্ট সিঁড়ির ঘাট, সাইনবোর্ড, লাল মাটি, আমতলাসহ সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দেদারসে আসছে ভারতীয় অবৈধ পণ্য সামগ্রী। ভারতীয় চোরাকারবারিদের কাছ থেকে জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের নামে চাঁদাবাজি করছেন মান্নান মেম্বার সহ কয়েকজন। লাইনম্যান মান্নান মেম্বার নিজেই চোরাচালান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সীমান্তবর্তী এলাকায় পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে মান্নান মেম্বারের নিজস্ব দোকানে ভারতীয় অবৈধ পণ্য সামগ্রী এনে দোকানে কিছু রেখে বাকি সব ভারতীয় পণ্য গোডাউন বুঝাই করে রাখেন যাতে কেউ বুঝতে না পারে। রাত হলে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য সামগ্রী বাংলাদেশ প্রবেশ করছে। সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভারতীয় চিনি, চা পাতা, কাঁট, কসমেটিক, মদ এর কার্টুন, ও বিদ্ধি ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন এর কটুন সহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে নিরাপদে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে। চোরাচালান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ, ডিবি, বিজিবি এসব মান্নান মেম্বার ম্যানেজ করে, আমরা মান্নান মেম্বারকে লাইনের টাকা দেই। জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের নামে লাইনম্যান হিসেবে মান্নান মেম্বার তার লোক দিয়ো টাকা আদায় করে। মাঝে মধ্যে পুলিশ-বিজিবি অবৈধ পণ্য জব্দ করলেও এসব মালের মালিকদের প্রকাশ্যে নিয়ে আসেনা, কারণ মান্নান টাকার বিনিময়ে সব ম্যানেজ করে নেন। পণ্যের মালিকরা থেকে যায় অন্তরালে। ফলে চোরাচালান বন্ধের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছেনা। সীমান্ত পার হয়ে আসা ভারতীয় এসব পণ্য নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছাতে বা রাস্তায় পুলিশের অভিযান হলে তখন সেই মাল রাখা হয় মন্নান মেম্বারের দোকানে। দিনের বেলা দোকান আভিযানের সময় দোকান হয়ে যায় গোডাউন। অভিযান শেষ হলে দোকান থেকে অল্প-অল্প করে মাল পাঠানো হয় গ্রাহকের কাছে। প্রতিরাতেই সিলেট সীমান্তে বিজিবির সামনেই নামছে চোরাচালানের পণ্য। এসব চোরাচালানে শুধু ভারতীয় পণ্যই থাকছে না, আসছে অস্ত্র ও নিষিদ্ধ মাদক। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গত ৩ মাসে বিএসএফ মেঘালয় এবং বিএসএফ মিজোরাম ও কাছাড় কর্তৃক অভিযানে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় আটক একাধিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান। আর দেশে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কয়েকটি অবৈধ অস্ত্র। এসব অস্ত্রতো যত সামান্য। মন্ত্রান মেম্বারের হাত হয়ে দেশে প্রতি সপ্তাহে প্রবেশ করছে বিশাল বিশাল মাদক ও অস্ত্রের চালান। কয়েকদিন আগে এরকম একটি অস্ত্রের চালান পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বিজিবি (তামাবিল, সোনাটিলা, স্থলবন্দর, নলজুড়ি, বল্লাঘাট জিরো পয়েন্ট, আমস্বপ্ন ও তালতলা, লালমাটি, নলজুরি সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় পণ্যের চোরাচালান। লালমাটি, সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প, বিজিবি ক্যান্টিন, সাইনবোর্ড, আমতলা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার। এ বিষয়ে জানতে মান্নানের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমি পুলিশের লাইনম্যান নই,
উল্লেখ্য, সিলেটের স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় চোরাচালানের গডফাদার মান্নানের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ পরিবেশন করা করা হলেও অদশ্য অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের অ্যাকশন না নেওয়ার কারণে ক্রমেই বেপোয়ারা হয়ে উঠেছে চোরাকারবারী মান্নান বাহিনী।
সূত্র দৈনিক পর্যবেক্ষণ