ঘুষ-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সিলেট বিআরটি
বিশেষ প্রতিবেদক:: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ সিলেটের (বিআরটিএ) অফিসে দালালদের দৌরাত্মে সাধারণ মানুষ অসহায়। দালালদের পাশাপাশি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের রয়েছেন ঘুষ গ্রহণের একটি সিন্ডিকেট। যারা সারাদিন অফিসে বসে ঘুষের লেনদেন করে থাকেন। অফিসটি সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মুখে হওয়া সিলেটে যোগদানের পরই সিলেটের বর্তমান জেলা প্রশাসক সরোওয়ার আলম একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুজনকে সাজা দেন। কিন্তু অভিযানের পরদিনই যেই লাউ-সেই কদু অবস্থা। অবশ্য ডিসি নিজেও বিআরটিএ অফিসে অভিযানে দালালীসহ দূর্নীতির প্রমান পেয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি এখনো। অদৃশ্য শক্তির কারণে দালালরা তাদের অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে। এতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সিলেট বিআরটিএ অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজন। মাঝে মধ্যে সিলেট বিআরটিএ অফিসে ঝটিকা অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সব দালাল পালিয়ে যায়। আটক হলে মুচলেখা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব সংবাদ বন্ধ রাখতে সিলেটের কয়েকজন সাংবাদিককে বিশেষ কোটার মাধ্যমে ম্যানেজ করে থাকেন বিআরটিএ অফিসাররা। একই পথে এখন চলছেন বর্তমান মটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেন। তিনি এখন নতুন করে কোটা দিয়ে ১৫ জন সাংবাদিকের একটি তালিকা করেছেন, যাতে বিআরটিএ অফিসের ঘুষ দূর্নীতি আর প্রশাসনের অভিযানের খবর বাইরে প্রচার না করা হয়। নতুন সাংবাদিকদের কোটাটি আজ ১০ তারিখ বুধবার থেকে কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। এ তালিকায় বড় সাংবাদিক-ছোট সাংবাদিক হিসাবে ভাগ করা হয়েছে। যিনি বড় সাংবাদিক তিনি প্রতিদিন পাবেন দুটি মার্কার ফাইলে সুবিধা আর যিনি ছোট সাংবাদিক তিনি প্রতিদিন পাবেন একটি মার্কার ফাইলের সুবিধা। প্রতি বুধবার সেই মার্কারের টাকা বুঝে নিবেন সাংবাদিকরা।
এদিকে সর্বশেষ জেলা প্রশাসক অভিযান চালিয়ে দুজনকে কারাদন্ড দেয়ার পর পাল্টেনি এই অফিসের ঘুষের চিত্র। এর আগেও সিলেট বিআরটিএ অফিসে দালাল ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে সেখানে দালালদের দৌরাত্ম্য, ঘুষ লেনদেন ও হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। এসব অভিযানে দালালদের আটক, জরিমানা ও মুচলেকা আদায় করা হয়েছে, এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-ও অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা, ব্লাংক চেক ও হকিস্টিক উদ্ধার করেছে এ সরকারি অফিস থেকে। সম্প্রতি কয়েক মাসে এক কথায় আলাদীনের চেরাগের মতো দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন সিলেট বিআরটিএ মোটরযানের পরিদর্শক মোশারফ হোসেন। তিনি সিলেট অফিসে দীর্ঘদিন থেকে কর্মরত রয়েছেন। তাই নিজেই গড়ে তোলেছেন নিজস্ব একটি ঘুষের নেটওয়ার্ক। তার সহযোগী হিসাবে যারা নিয়ন্ত্রন করে সিলেট বিআরটিএ তারা হলেন, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোজাম্মেল হোসেন ইমন, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোছা: রাবেয়া আক্তার ভূঁইয়া। অফিসের কর্মচারীরা সরাসরি জড়িত রয়েছেন ঘুষ বাণিজ্যর সাথে। খোঁজ নিয়ে যায়, মোশারফ হোসেন দায়িত্ব নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন নিজস্ব দালাল বাহিনী। এই দালাল
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি
বিআরটিএ
সিলেটে বিআরটিএ অফিসে এই তিনজনের মাসিক আয় অর্ধকোটি টাকা
ঘুষের টাকা লেনদেন হয় প্রতি বৃহস্পতিবার'
সংবাদ প্রকাশ না করতে ১৫ সাংবাদিকের কোটা নির্ধারণ
বাহিনীর মধ্যে পার্মিট শাখার দালাল রাজু, ফিটনেস শাখার দালাল আলী, আমিনুর রহমান আমিন, কালা জাবেদ, শ্যামল দত্ত, আবুল কালাম, রেদোয়ান, রাজু, রানা বাবু, ফয়সল, কার সিটির মিজান, আওয়ামী লীগ ক্যাডার ফয়ছলের ভাই মিজান, ফখরুল, জনিসহ ১৫/২০ জনের একটি দালাল চক্র নিয়ন্ত্রণ করে সিলেট বিআরটিএ অফিস। প্রতি বৃহস্পতিবার বিকালে জিন্দাবাজারে একটি বাসায়, মুক্তিযোদ্ধা গলি, ডায়বেটিকস গলিতে বসে ঘুষ লেনদেনের টাকা মোশারফ হোসেনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মোশারফ হোসেনের হয়ে ঘুষের টাকা আদায় করেন, অফিসের কর্মচারী রাবেয়া আক্তার, মোয়াজ্জেম হোসেন ইমন, দালাল আব্দুল কালাম, আমিনুর রহমান আমিন। এই দালাল চক্র অফিসের এসব কর্মকর্তার সাথে মিলেমিশে ফ্যাসিস্ট আমল থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতির চাষে সফল হলেও তাদের কে কেউই আইনের আওয়তায় নিয়ে আসতে পারেননি। এদিকে প্রশাসনিক ক্ষমতায় কেন্দ্রিভূত মোশারফ হোসেন, তার কলমের খোঁচায় বৈধতা পেতে পারে যে কোনো গাড়ির ভবিষ্যত। সে চুরির হউক আর যত অবৈধ হউক। গাড়ির মালিকরা নিরূপায় হয়ে মোশারফ হোসেনকে ঘুষ দিয়ে গাড়ির ভবিষ্যত সুরক্ষায় রাজি হন। বিগত সরকারের শাসন আমলের মতো সিলেট বিআরটিএ ঘুষ বাণিজ্যে সংস্কৃতি যেই সেই। ঘুষ বাণিজ্যের ঠান্ডা মাথার মাস্টার মাইন্ড মোশারফ হোসেন। তার চেয়ার, তার ক্ষমতা এখনো অপ্রতিরোধ্য। সে কারণে তাকে নিয়ে চাপা ক্ষোভের শেষ নেই ভুক্তভোগীদের মাঝে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিআরটির মোটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেনের বেতনস্কেল মাত্র ৩৮ হাজার টাকা। এই টাকাতে কি ভাবে এতো বিলাসি জীবন যাপন করছেন তিনি, মনে আসে স্বাভাবিক সেই প্রশ্ন।
তিনি নিজেই ২৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে থাকেন, সিলেট নগরীর অভিজাত এলাকায়। সিলেট বিআরটিএ সূত্রে, মোটরযান শাখা সিলেট থেকে ঘুষ বাণিজ্য বাবদ তার মাসিক আয় ৫০ লাখের মতো। কারণ ঘুষ ছাড়া কলম নড়ে না মোশারফের। এই অবৈধ আয়ের অর্থ প্রতিদিন সন্ধ্যায় বহন করেন ইমন নামের এক তরুণ। এই ইমন সিলেট বিএআরটি অফিসের আরেক কর্মচারী। সম্প্রতি সিলেট বিএআরটিএতে সিএনজির নতুন করে অনুমোদনের এক মিশনে নেমেছেন মোশারফ হোসেন। ৩ হাজার গাড়ির অনুমোদন তথ্য দিয়ে, অগ্রিম ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পকেটে নিয়ে তুলেছেন এই সিন্ডিকেট। এভাবে প্রায় ১২ কোটি টাকা এখন তাদের পকেটে। অনুমোদেনের নির্দেশ হলেই, অগ্রিম টাকা নেয়া গাড়ি গুলো অনুমোদন প্রাধান্য পাবে তাদের নেয়া ঘুষ টোপে। অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ মে বুধবার সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সিলেট কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সিলেট বিআরটিএ অফিসে ৫০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে সিলেট বিআরটিএ অফিসের সাবেক মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের রুম থেকে ৫টি ব্ল্যাঙ্ক চেক, ৩টি মোবাইল ফোন এবং একটি হকিস্টিক উদ্ধার করা হয়। হকিস্টিক দিয়ে বিভিন্ন সময় গ্রাহকদের অত্যাচার করতেন তিনি। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন মোশারফ হোসেন। এসময় দুদক সিলেট অঞ্চল সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন জানিয়ে ছিলেন, বিআরটিএ দেশের পরিবহন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সংস্থাটির সেবার মান নিয়ে বহুদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেট বিআরটিএ অফিসে প্রায় সময়ই অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক)। সর্বশেষ গ্রাহকদের অভিযোগে জেলা প্রশাসক সরোওয়ার আলম অভিযান চালিয়ে সতত্যা পেয়ে দুই কর্মচারীকে কারাদন্ডও দিয়েছেন। কিন্তু পরদিন থেকে যেই লাউ সেই কদু অবস্থা। যেভাবে হয় অবৈধ লেনদেন প্রতি বৃহস্পতিবার বিকালে জিন্দাবাজারে বসে লেনদেন হয় ঘুষের টাকার। ঘুষের টাকা আদায় করেন আব্দুল কালাম, আমিনুর রহমান আমিন। যে কোনো ধরনের কাজের জন্য বিআরটিএতে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এরপর পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ হয় এবং তারপর ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হয়। কিন্তু এর আগের দিন কাগজপত্র নিয়ে বিআরটিএ অফিসে গিয়ে একটি মার্ক করা লাগে। এই মার্ক করতে মোশারফ হোসেন ঘুষ নেন অফিস সহকারী, ইমন ও রাবেয়ার মাধ্যমে। এরপর দালালদের মাধ্যমে কাগজপত্রে ঘুষের মার্ক করানো লাগে। কাগজে মার্ক করা হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্সে অডিনারী হলে ঘুষের পরিমান ৩ হাজার টাকা, আর্জেন্ট হলে ঘুনতে হয় ১০ হাজার টাকা। অবশ্য এটি লেনদেনের রেইট নির্ধারণ করেছেন মোশারফ। সরকারি ফি'র বাইরে ফিটনেস পরীক্ষায় প্রতি সিএনজি বাবদ ঘুষ রাখা হয় ২ হাজার টাকা, বড় গাড়ি ৩ হাজার আর ট্রাক সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এ বিষয়ে মোশারফ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদ প্রকাশ না করার
জন্য শুরু হয় তদবির।
সূত্র দৈনিক পর্যবেক্ষণ
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ নিজাম উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক : আইয়ুব আলী অফিস ; খান কমপ্লেক্স, সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, সিলেট। যোগাযোগ : প্রকাশক ও সম্পাদক : ০১৭৩৭-৩০৪৭৫১। ই-মেইল : sylhetbuletin@gmail.com
All rights reserved © 2025 sylhet buletin