#রাত্রে যাত্রীর কথা চিন্তা করে দ্রুত করা হয় উদ্ধার কাজ #
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট আখাউড়া রেলপথে সংস্কার কাজ না হওয়ায় নিয়মিতই হচ্ছে রেল ট্রেনের নানা দুর্ঘটনা। শুধু যাত্রীবাহী ট্রেন নয় মালবাহী ওয়াগন পর্যন্ত এর কবলে পড়ছে। রেলের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে মালবাহী ট্রেন অর্থাৎ তেলবাহী ওয়াগন। এই মাল আদান-প্রদানের কারণেই রেলওয়ে সবচেয়ে বড় রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। যাত্রীরা সংস্কার না হওয়ায় যেমন দুর্ভোগে পড়ছেন তেমনি রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীরাও দুর্ঘটনা মোকাবেলা করে উদ্ধার কাজে করতে হচ্ছে নিয়মিত কঠিন পরিশ্রম , কোন কোন সময় কাটাতে হচ্ছে নির্ঘুম রাত।
এমনই এক ওয়াগন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মল্লিকপুরে । যদিও খালি থাকায় হয়নি তেমন ক্ষয়ক্ষতি। সিলেট ও মাইজগাও এ দুর্ঘটনায় আটকে থাকা যাত্রীরা দাবি করেছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে হাওড়া সিলেট রেলপথের সংস্কার টেনডারটি ( কাজটি) ।
গত পৌনে চার ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর এলাকায় তেলবাহী ওয়াগনের (৯৫২) একটি বগি লাইনচ্যুত হলে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে আটকা পড়ে সিলেট রেলস্টেশনে ঢাকাগামী উপবন ও চট্টগ্রামগামী উদয়ন , মাইজগাঁও স্টেশনে আটকা পড়ে ঢাকা থেকে সিলেটগামী কালনি এক্সপ্রেস ।
আজ সকালে দুর্ঘটনার স্থান থেকে ওয়াগন চট্টগ্রামের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম।
ঘটনায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেসের যাত্রী, দৈনিক সিলেটের ডাকের বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক এনামুল হক জুবের এ প্রতিবেদক কে জানান রাত সাড়ে ১১টার দিকেতিনি আটকা পড়ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ মাইজগাঁও স্টেশনে। উপায় না পেয়ে ট্রেন থেকে নেমে তিনি সড়কপথে পৌঁছেন সিলেটের গন্তব্যে।
এরকম অনেক যাত্রীরা অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে নেমে পড়েন ট্রেন থেকে এ খবর শুনে যাত্রী নিরাপত্তায় ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয় বলে জানিয়েছেন থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান।
উদ্ধার কার্যক্রম শেষে শনিবার (৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কুলাউড়া থেকে আসা রিলিফ ট্রেন ও ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী ( পথ) এর কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শেষ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় করতে সপ্তম হয়। দ্রুত ট্রেন চলাচল সহজ করতে কাজ করেন ট্রেন উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ), কুলাউড়া সাইফুল্লাহ রিয়াদ। এ সময় কাজের সহায়তা করেন সিলেটের হেড মেইট মহব্বত।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সিলেটের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী শোয়েব আহমদ ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার আবু বকর রাসেল এ প্রতিবেদক কে জানান, কুলাউড়া ওয়ার্কশপ থেকে রিলিক ট্রেন এসে ট্রেনটিকে উদ্ধারের পর পরবর্তীতে রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (প্রকৌশলী বিভাগ পথ) অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ করে ট্রেন চলাচল উপযোগী করে লাইনকে ফিট ঘোষণা দেয়ার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে তেলের গাড়িগুলো ফাঁকা থাকায় তেমন কোন ক্ষতি সাধন হয় নি।রাত্রে যাত্রী সেবার কথা চিন্তা করে দ্রুত করা হয় উদ্ধার কাজ।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ভোরে সিলেটে পৌঁছে তেল আনলোড করা বিশেষ ট্যাংক–ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা কালে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে ট্রেনটি মল্লিকপুর এলাকায় পৌঁছালে একটি ওয়াগনের চাকা লাইনের বাইরে চলে যায়। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রেনে থাকা ট্রেনের পরিচালক বুরহান উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য সিলেট থেকে ইঞ্জিন এসে দু’পাশের বগি সরিয়ে দেয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ নিজাম উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক : আইয়ুব আলী অফিস ; খান কমপ্লেক্স, সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, সিলেট। যোগাযোগ : প্রকাশক ও সম্পাদক : ০১৭৩৭-৩০৪৭৫১। ই-মেইল : sylhetbuletin@gmail.com
All rights reserved © 2025 sylhet buletin