শিরোনাম
সিলেটের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিলেন কাজী আখতার উল আলম সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন মৌলভীবাজার জেলা শাখার অভিষেক ও আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত।  সুনামগঞ্জে নতুন পুলিশ সুপারের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে” জেলার চোরাকারবারি, মাদকসহ সবধরনের অপরাধ দমন করার আশ্বাস প্রদান করেন—নবাগত পুলিশ সুপার   বিএনপির চেয়ারপার্সনের সুস্থতা কামনা করে দিরাই বিএনপির ও সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে জগন্নাথ মন্দিরে প্রার্থনা সভা সুনামগঞ্জে খুচরা সার বিক্রেতাদের লাইসেন্স বহাল ও নীতিমালা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন সুনামগঞ্জে দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন এড.নুরুল ইসলাম নুরুল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় মানিকগঞ্জে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। মল্লিকপুর বগি লাইনচ্যুত: তেলবাহী ওয়াগন ছিলো খালি তাই হয়নি ক্ষয়ক্ষতি  বিএনপির চেয়ারপার্সনের সুস্থতা কামনা করে সুনামগঞ্জ-৪(সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত সিলেট নগরীর বন্দরবাজারে তালহা রেস্ট হাউজে ডিবির অ ভি যা ন ৫ জন গ্রে ফ তা র
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

সীমান্তের চোরাচালানের জড়িত জৈন্তার ওসি দারোগা, কনেষ্টবলসহ একাধিক লাইনম্যান

স্টাফ রিপোর্টার / ৮৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫

সীমান্তের চোরাচালানের জড়িত জৈন্তার ওসি দারোগা, কনেষ্টবলসহ একাধিক লাইনম্যান

 

 

 জৈন্তাপুর থেকে ফিরে: বিশেষ প্রতিবেদক:: 

 

এদিকে সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানের সাথে সরাসরি জড়িত থানার ওসি আবুল বাশার মো. বদরজ্জামান নিজেই। তার সহযোগী হিসাবে চোরাচালানের টাকা উত্তোলন করেন থানার এসআই ওবায়দুল ইসলাম, এসআই রাজন দেব ও ওসির বডিগার্ড কনেষ্টবল সৈয়দ আবেদ আলী। ওসি নিজের রুমে মিটিং ডেকে সকল চোরাকারবারিকে বুঝিয়ে দিয়েছেন কোন কোন ধরণের চোরাচালানের বখরার টাকা কার কাছে কত দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি নিয়োগ দিয়েছেন নিজস্ব কয়েকজন লাইনম্যান। যারা দিনরাত সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাচালানের বখরার টাকা উত্তোলন করে থাকেন। অপরদিকে বড় চোরাকারবারিদের সাথে সির রয়েছে সাপ্তাহিক চুক্তি। প্রতি সপ্তাহের চোরাচালানের হিসাব এসব চোরাকারবারিরা থানায় গিয়ে ওসিকে বুঝিয়ে দিয়ে আসেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, উপজেলার সকল চোরাকারবারিদের সাথে মিটিং করে ওসির নির্দেশে এই ৩ পুলিশ সদস্য ভাগ করে নিয়েছেন নিজ নিজ এলাকা। ভারতীয় চোরাচালানের থাক

 

জৈন্তাপুরের এই ওসি নিজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখতে প্রতি সপ্তাহে আবার মাসে অন্তত ৪০ জন সাংবাদিককে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে থাকেন। এমন একটি তালিকা আমাদের হাতে এসেছে। তবে এই কথাটি ওসি নিজেই বলে থাকেন তথ্য চাওয়া সাংবাদিকদের। তিনি প্রায়ই বলেন তিনি নাকি ২০/৩০ জন সাংবাদিক পোষে রাখেন নিজের জন্য। বিষয়টি অনেকটা অপেন সিক্রেট হলে স্থানীয় সাংবাদিকরা ওসির বিরুদ্ধে টু শব্দ করার সাহস নেই। জৈন্তাপুর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পার্শ্ববর্তী গোয়াইনঘাট থানা পেরিয়ে জৈন্তাপুর থানার সামনে দিয়ে মিনি ট্রাক দিয়ে প্রতিদিন আসে ভারতীয় অবৈধ বিভিন্ন রকম পণ্য। মাঝে মধ্যে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করলেও মূল অপরাধীরা থেকে যান আড়ালে। উপর মহলকে খুশি রাখতে দু একটি ছোট চালান আটক করলেও কোন চোরাকারবারি আটক করেনা পুলিশ। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গোয়াইনঘাটের জাফলং মামার বাজার থেকে শীতের কম্বল নিয়ে একটি টমটম আসছিলো জৈন্তাপুর বাজারের দিকে। থানার মোড়ে আসার পর সেই গাড়ি আটক করেন কনেস্টবল আবেদ আলী। আবেদ হচ্ছেন ওসির বডিগার্ড। তিনি কম্বল নিয়ে আসা বাক্তির কাছে মালিকের নাম জিজ্ঞেস করেই ছেড়ে দেন। অন্যদিকে এক পথচারি সেই মাল আটক ও ছাড়ার ভিডিও তার মুঠোফোনে ধারণ করেন

 

জানা যায়, ওসির বডিগার্ড আবেদ আলী চোরাচালানের লাইনের সকল টাকা বুঝে নেন। এর আগে সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। স্থানীয় বিএনপি মানববন্ধনের ডাক দিয়ে সমাবেশ করে। চলতি বছরের ২৮ জুন রাতে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল মহিষমারা হাওর থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৭টি মহিষ আটক করে ৮ জনের নামে মামলা রুজু করে পরে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে দু’জনের নাম মামলা থেকে বাদ দিয়ে নিরিহ দুজনের নাম সংযুক্ত করেন ওসি। স্থানীয়রাও জানান, চোরাচালানের পণ্য আটক বা জব্দের পর দায়েরকৃত মামলায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নাম সংযোজন ও বিয়োজন করেন জৈন্তাপুর থানার ওসি আবুল বাশার মো. বদরুজ্জামান। এতে অনেক নিরিহ মানুষ আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিনাদোষে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার এসপি বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন এক ভুক্তভোগী। এ রকম চোরাচালানের ঘটনা প্রমানিত হলে ওসি আবুল বাশার মো. বদরুজ্জামানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও তিনি এখনো জৈন্তাপুর থানায় বহাল রয়েছেন, এমন একটি গুঞ্জন রয়েছে জৈন্তাপুর উপজেলায়। ওসির ভাষ্য হচ্ছে, আমার বদলী হয়ে গেছে, যতদিন আছি খেয়ে যাই। বদলীতো হয়ে গেছি আর

 

কোথায় দিবে। আমি যেখানে যাবো সেখানো ওসি থাকবো। যার ফলে জৈন্তাপুর থানা এলাকায় চোরাচালান ওপেন সিক্রেট বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে ওসি কর্তৃক মিথ্যা মামলার স্বীকার হন লালা মিয়ার ছেলে রায়হান পারভেজ ও বাসির আহমদ। তারা জানান, চোরাকারবারের সাথে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ ওসি টাকা খেয়ে দু’জনের নাম বাদ দিয়ে তাদের নাম মামলায় সংযুক্ত করে হয়রানী করেন। অনুসন্ধানের পর জানা যায়, সীমান্তের সবচেয়ে বেশি চোরাচালান ঢুকে জেলার জৈন্তাপুর থানা দিয়ে। ওই থানার ওসির নামে চাঁদা তোলেন কিছু বখরাবাজসহ তিনজন পুলিশ সদস্য। স্থানীয় চোরাকারবারিদের ভাষায় ভাষায় এই টাকাকে বলে লাইনের টাকা। টাকা দিলে চোরাকারবারিদের লাইন ক্লিয়ার না দিলে হয় আটক। এমনি ভাবে দিন-রাত চলে সিলেট সীমান্তের চোরাচালান, চাঁদাবাজির নাটক। যে নাটকে রাজস্ব হারায় রাষ্ট্র, পকেট ভরছে দায়িত্বে থাকা ওসির নিয়োগকৃত চাঁদাবাজরা। বাজরা। চোরাচালানের প্রতিটি আইটেমের জন্য ওসির রয়েছে আলাদা-আলাদা এলাকা লাইনম্যান যেমন, গরু মহিষের দায়িত্বে আছেন জনৈক আব্দুল, আবুল, আব্দুল করিম উরফে ব্যান্ডিজ করিম, তরিকুল ইসলাম। চিনি-চাপাতা, কসমেটিক, চোরাই মোটরসাইকেল (হোন্ডা) ও কিট,

 

কিট, জিরা, মাদকের টাকা তুলেন থানার এসআই রাজন দেব। তবে সকলেই প্রতিদিনের টাকা কনেষ্টবল সৈয়দ আবেদ আলীকে বুঝিয়ে দিতে হয়। কারণ আবেদ হচ্ছেন ওসির নিজস্ব ক্যাশিয়ার। ওসির নির্দেশে এই চোরাচালান চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত থানার এই দুই এসআই, ও কনেষ্টবল আবেদ আলী। কনেষ্টবল আবেদ নিজেকে পরিচয় দেন তিনি থানার ওসির ক্যাশিয়ার হিসাবে।

 

সরেজমিন জানা যায়, জৈন্তাপুর খানার প্রায় শতাধিক পয়েন্টে দিয়ে দেশে প্রবেশ করে ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য আর এসব পণ্য থেকে পুলিশের লাইনের টাকা হিসাবে বখরা আদায়ের পরিমান প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, বালু বাণিজ্য আর বখরার রাজত্বে জৈন্তাপুরে খানায় ওসির বডিগার্ড আবেদ আলীর সকল লেনদেন করেন ওসির বড়িগার্ড কনেষ্টবল আবেদ আলী। বর্তমান সময়ে বডিগার্ড আবেদই হয়ে উঠেছেন এখন ওসির টাকার মেশিন। সীমান্তের চোরাকারবারি, বালু-পাথর লুট ও লাইনম্যানদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বখরা আদায়ের মূল মাধ্যম এই আবেদ আলী। অভিযোগ উঠেছে, ওসির নির্দেশে আবেদ নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট চোরাই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বখরা আদায় করে খানায় পৌঁছে দেন। স্থানীয় সাংবাদিকদেরও “ম্যানেজ” করে রাখার

 

দায়িত্ব পালন করেন তিনি। যাতে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশ না পায়। সূত্রমতে, ওসি জৈন্তাপুর থানায় যোগদানের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা অবৈধ হাতিয়ে নিয়েছেন। সীমান্ত এলাকার প্রতিটি অবৈধ লেনদেন, পণ্য পাচার, এমনকি বালু ট্রাক চলাচলের প্রতিটি “লাইন” আবেদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।

 

সরেজমিনে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপার থেকে প্রতিদিন আসছে, গরু, মহিষ, মোবাইল কসমেটিক, কিট, চাপাতা, জিরা, কাপড় সহ নানা ধরনের মাদক, প্রকাশ্যে এসব ব্যবসা চললেও স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে। সারাদিন সরকারি দায়িত্ব পালন ছেড়ে কনেষ্টবল আবেদ আলী বসে থাকেন। হরিপুর ও দরবস্ত বাজার চোরাচালানের লাইনের টাকা উত্তোলন করতে

 

জৈন্তাপুর সীমান্তের বিশেষ করে উপজেলার নলজুরী খাসিনদী, খাসি হাওর, মোকামবাড়ী, আলুবাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, আদর্শগ্রাম, মিনাটিলা, কেন্দ্রী মন্দির, কাঁঠালবাড়ী, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর, (আসামপাড়া), মরিছমারা, ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, গৌরীশংকর, টিপরাখলা, করিমটিলা, কমলাবাড়ী, ভিতরগোল, গোয়াবাড়ী, বাইরাখেল, হর্নি, ময়না, নয়াগ্রাম, জালিয়াখলা, কালিঞ্জি, লালমিয়া ও অভিনাশের টিলা, জঙ্গিবিল, আফিফানগর, তুমইর, বাঘছড়া, বলিদাঁড়া, রাবাববাগান, ইয়াংরাজা, ডিবির হাওর, ১৯ বিজিবির ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, গৌরীশংকর, টিপরাখলা, করিমটিলা, ভিতরগোল, গোয়াবাড়ী ও বাইরাখেল সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে চা-পাতা, কসমেট্রিকস, শাড়ি, লেহেঙ্গা, ভারতীয় মোটরসাইকেল, আমদানি নিষিদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, চেতনানাশক ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, হরলিক্স, শিশুখাদ্য, বিস্কুট, চকোলেট, ভারতীয় টাটা গাড়ির টায়ার, টিউবসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। মাদকের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ব্র্যান্ডের সিগনেচার, ওন্ডমা, ম্যাজিক মোমেন্ট, নাম্বার ওয়ান, ব্লেন্ডার প্রাইড অফিসার্স চয়েস, রামানন্ত মাদক। এছাড়া ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাজা ইত্যাদি। জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে আসা গরু-মহিষ স্থানীয় বাজার গুলোয় নিয়ে যাওয়া যায় প্রথমে। পরে সেখানে ইজারার ফি দিয়ে গরু-মহিষ বিক্রির রশিদ নিয়ে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য এর জন্য সোর্স ও লাইনম্যানদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয় চোরাকারবারিদের। সীমান্ত দিয়ে আসা বিভিন্ন চোরাই পণ্য হরিপুর এলাকায় মজুদ করা হয়। নিরাপদ প্রবেশ ও টাকার হিসাব তোলার দায়িত্বে রয়েছেন কনস্টেবল সৈয়দ আবেদ আলী। তিনি জৈন্তাপুর থানার ওসির ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব

 

সূত্র দৈনিক পর্যবেক্ষণ

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ