সিলেট আদালত পাড়ায় বিতর্কিত নিলামে জড়িত শক্তিশালী সিন্ডিকেট
বিশেষ প্রতিবেদক:: অবশেষে বাতিল করা হলো সিলেটের আদালতে জব্দ বালুর বির্তকৃত সেই নিলাম। বর্তমান বাজারে ঘনফুটের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা হলেও সরকারি নিলামে তা মাত্র ‘২ টাকা ধরে’ বিক্রি করা হয়েছিলো বালু। শুধু তাই নয়, এই নিলামের কাগজপত্র ব্যবহার করে আবারও বালু লুটপাটের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে চক্রটি। সব কিছু চোখের সামনে হলেও সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েস আহমদের ভয়ে প্রশাসনের কেউ মুখ খুলেননি এতোদিন। নিরুপায় হয়ে নিলামে অংশ নিতে না পারা ব্যবসায়ী এমদাদ হোসেন ভূইয়া পিতা আনোয়ার হোসেন দুদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে
# দুদকে অভিযোগ দাখিল
# তড়িগড়ি করে কার্যাদেশ নেয়ার চেষ্টা
# দলের নাম ব্যবহার করে টাকা ভাগভাটোয়ারা
সিলেটের জব্দকৃত বালু সিন্ডিকেটের মূলহুতা এই সেই কয়েছ।
সিলেট জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এতে সরকারের অন্তত ১৩ কোটি টাকা লোকসানের কথা তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল রোববার বালুর ক্রেতাকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার কথা
থাকলে বিষয়টি নিয়ে তুলপাড় শুরু হলে অবশেষে রবিবার সেই নিলামটি বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ আছে দীর্ঘদিন থেকে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে জব্দকৃত বালু, পাথর, চোরাই চিনিসহ ভারতীয় আটকপণ্য বাজারদরের সঙ্গে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রেখে নিলাম ডাক সম্পন্ন করা হচ্ছে সিলেট আদালত পাড়ায়। কিন্তু এই সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহসই পাচ্ছিলোনা। ফলে প্রতিটি নিলামে সরকারে কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছিলো। প্রশাসনের অভিযানে পর আটককৃত পন্য আদালতে নিলাম হলে সুযোগ লুফে নিচ্ছে একটি চক্র। তারা আদালতের কতিপয় কর্মকর্তাদের সাথে আতাঁত করে ।
সিলেট আদালত পাড়ায়
অল্প দামে নিলামে নিয়ে এই পন্যর কাগজ ব্যবহার করে চোরাচালানে।
সম্প্রতি মাত্র দুই টাকা ফুট দরে বালু নিলাম নেন যুবদল নেতা কয়েস আহমদ নামের একজন। সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক কয়েসের সাথে আতাঁত করে সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফাইজুল – ইসলাম এসব বির্তকৃত কর্মকান্ড করে আসছেন দীর্ঘ দিন থেকে। অভিযোগ উঠে নিলামে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিন্ডিকেটের একটি অংশের যোগাসাজশে বালুর দর দুই টাকায় নামিয়ে নিলাম সম্পন্ন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করেছেন আদালতের এই কর্মকর্তা।
এতো অভিযোগের পর অনুতপ্ত না হয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্য নিলাম ডাক হয়েছে। এখানে রাখ ঢাকের কিছু নেই। নিলাম সম্পন্ন করা দপ্তরে এসে এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। গতকাল রোববার তড়িঘড়ি করে ৬ মাসের সময় দিয়ে বালুর ক্রেতাকে ওয়ার্ক ওয়ার্ডার দেওয়ার কথা থাকলেও এই দুর্নীতি বন্ধ করতে গত শনিবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি লিখিত ভাবে বিষয়টি সিলেট জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, জেলা ও দায়রা জজ সিলেট, উপ পরিচালক ডিজিএফআই সিলেট, যুগ্ম পরিচালক এনএসআই সিলেট, উপ কমিশনার সিটিএসবি বরাবরে লিখিত এ অভিযোগ প্রেরণ করেন।
এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, গত ১৩ নভেম্বর সিলেট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিলেট কর্তৃক একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৯ নভেম্বর তিনি সহ অনেকেই ব্যাংক চালান জমা দিয়ে মালামাল ক্রয়ের জন্য আদালতে উপস্থিত হন। কিন্তু আদালতের এজলাসে প্রবেশের পর সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েস আহমদ ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা আদালতের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সবাইকে এজলাস থেকে বের করে দিয়ে মাত্র ২ টাকা দরে পরিবেশ মামলা নং ০৬/২০২৫ এ জব্দকৃত ১০,১৮৯.৯৯৯ ঘনফুট ও পরিবেশ মামলা নং ০৭/২০২৫ ইং এ ১১,৭৮,৯৯৯ ঘনফুট বালু নিলাম করে নেন। শুধু তাই নয় ২৩ নভেম্বর উল্লেখিত বালু সমুহ অপসারনের জন্য ৬ মাসের সময় দিয়ে কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করা হয়। ইতিপূর্বে উক্ত বালু সমূহ নিলামের জন্য আরো ২ বার নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তি জারির পর ২২/১০/২০২৫ তারিখে এই বালু সমূহ ৯ টাকা ৫০ পয়সা এবং – ০২/১১/২০২৫ তারিখে ৭ টাকা ৬০ পয়সা ধর উঠলেও রহস্যজনক কারনে সেই সময়ে নিলাম না করে সর্বশেষ তারিখে মাত্র ২ টাকা ধরে নিলাম করে সরকারকে বিপুল সংখ্যক রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে।
এদিকে গোয়াইনঘাটের স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে – জানা গেছে, বালির হাওর এলাকায় উত্তোলিত বালু ন্যূনতম ৪০-৪৫ টাকা ঘনফুট দামে বিক্রি হয়। সেই হিসাবে নিলামকৃত বালুর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটি টাকা। সরকারি নিলামের অনলাইন বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বালুমহাল বহির্ভূত এলাকা থেকে জব্দ করা বালুসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রকাশ্য – নিলাম ডাক সম্পন্ন হয় ১৯ নভেম্বর।
এর মধ্যে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৬ ঘনফুট ও ১১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৯ ঘনফুট বালুর নিলাম ডাক হয়। বালুর বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ১৩ কোটি টাকার বালুর নিলাম ডাকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ৯ জন ব্যবসায়ীর। কিন্তু নিলাম ডাকের সময় অনুপস্থিত থাকেন আটজন। অংশ নেন কেবল কয়েস আহমদ নামের একজন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নিলাম ডাকের – প্রথম বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বালুর দর প্রতি ফুট সাড়ে ৯ টাকা ডাক উঠেছিল। বাজারদরের সঙ্গে অসামঞ্জস্য থাকায় তখন দাম বাড়াতে দ্বিতীয় দফা নিলাম ডাক আহ্বান করা হয়। জানা গেছে, নিলাম ডাকে শায়েস্তা খার দর ঢাকতে – দ্রুত সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে ওয়ার্ক ওয়ার্ডার গ্রহণপূর্বক নিলামের বালু অপসারণ তথা ক্রেতার হেফাজতে নিতে ছয় মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছে।
প্রথম দফার নিলামে অংশ নেওয়া বালু ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছয় মাসের আবেদন মঞ্জুর হলে নিলামের বালু অপসারণের নামে বালু আহরণপূর্বক পুরো নিলাম ডাকের সমপরিমাণ বালু আহরণে সক্রিয় রয়েছে সিন্ডিকেটটি। এতে করে ১৩ কোটি টাকার বালুর সঙ্গে আরও প্রায় দ্বিগুণ বালু মিলিয়ে সরকারের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার বালু লুটের তৎপরতা চলছে। গত ২২ অক্টোবর সেই নিলাম ডাকের নথি থেকে জানা গেছে, ৯ জন ব্যবসায়ী অংশ নেন। – সর্বোচ্চ দর ছিল সাড়ে ৯ টাকা। বাকিরা কোনো দর হাঁকাননি। দ্বিতীয় দফায় এসে দর নামে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। সর্বশেষ দুই টাকা ৬৮ পয়সা। নিলাম ডাক সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বালু ৩৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে নিলাম ডাকের = মধ্যে সরকারের প্রায় ১৩ কোটি টাকা গচ্চা গেছে। এ বিষয়ে নিলাম কমিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা (নাজির) ফাইজুল ইসলাম গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে অপরাগত প্রকাশ করেন।
নিলাম গ্রহণকারী সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েস = আহমদ জানান, কাগজে ২২ লাখ ঘনফুট থাকলেও সরেজমিনে ছয় সাড়ে ছয় লাখ ফুট বালু আছে। তিনি এসব অস্বীকার করে নিয়মানুসারে টেন্ডার পেয়েছেন বলে জানান। যদিও এমদাদ হোসেন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংবাদ পত্রে সংবাদ প্রকাশ হলে নিলাম পক্রিয়াটি গতকাল রবিবার বাতিল করে দেয় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
সূত্র দৈনিক পর্যবেক্ষণ