শিরোনাম
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় শক্তিশালী এখন অনলাইন গণমাধ্যম – ইমদাদ হোসেন চৌধুরী  চেঙ্গেরখাল নদী গর্ভে সালুটিকর গাংকিনারী সড়ক:: সরেজমিন পরিদর্শন করলেন আব্দুল হাকিম চৌধুরী, ইউএনও ও পিআইও বালু উত্তোলন বন্ধে জাফলংয়ে প্রশাসনের অভিযান: পেলুডার ও ট্রাক জব্দ, আটক ২ ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ধানের সম্প্রসারণে এগ্রো ডিলার ও বীজ ডিলারদের প্রশিক্ষণ প্রদান ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ই/স/রা/য়েলের হা/ম/লা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা হা/ম/লায় মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ভালোভাবে নজর রাখছে বাংলাদেশ।  সরকারি সম্পদ যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে — শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী । গোয়াইনঘাটর  ডালার পারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ধ্বংস পরিবেশ, নেতৃত্বে কে এই স্বপন?  ডেবিল স্বপন সহ তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক?  অবৈধভাবে বালুমহাল চালু ও পাথর উত্তোলন করা যাবে না- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী। এক রাস্তার শহর কুলাউড়া; অগণিত যানবাহনে দমবন্ধ সময় সিলেটে ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

সিলেট নগরীর তেররতন এলাকায় তানভীরের রমরমা মাদক ব্যবসা! 

স্টাফ রিপোর্টার / ২০৩ Time View
Update : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটের উপশহর এলাকার তেররতন এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত আটটা। নগরের তেররতন এলাকায় আখড়া গলি নামক স্থান। ২০ ফুট চওড়া সড়কটি দখলে সরু হয়ে গেছে। সড়কের একপাশে থাকা ল্যাম্পপোস্টগুলোয় আলো জ্বলছে। অনেক খালি রিকশা যাত্রী ছাড়াই আসা-যাওয়া করছে। ছোট ছোট মুদি দোকান, হোটেল ও সেলুনে ভারতীয় হিন্দি গান উচ্চ স্বরে বেজে চলছে।প্রতিটি দোকানে ক্রেতার কমতি নেই। রাস্তায় যাচ্ছে তিন-চারজনের ছোট ছোট দল। বেশির ভাগই ১৩ থেকে ১৭ বছরের কিশোর তবে বেশিরভাগ কিশোর কলনীর বাসিন্দা। এসব কিশোরের মধ্যে কেউ কেউ একলা দীর্ঘ সরু রাস্তার এমাথা-ওমাথা হাঁটছে। তাদের চোখ বারবার আছড়ে পড়ছে হাতের মোবাইল ফোনে। আর দেখে নিচ্ছে চারপাশ। কয়েকজন কিশোর আবার রাস্তার পাশে ওত পেতে আছে আঁধারে। সেখান থেকে এক কিশোর-কণ্ঠ বলে উঠল, ‘ভাই, লাগেনি ? অখনউ আনিয়া দিমু।’ কথায় উর্দু টান।

পাশ ফিরতেই মোটরসাইকেল নিয়ে সে কাছে ছুটে এল। একা নয়, সঙ্গে আরও একজন। এক ছেলেটির মাথার সামনের চুল ছোট, মুখে মাকস পরা, পেছনের চুল ছোট। গায়ের রং কালো। পরনে প্রিন্টের টি শার্ট ও গ্যাপাটিন প্যান্ট। আরেকজন সাস্থভান কালো এক যুবক গলি আগলে দাঁড়িয়ে হাসছে ছেলেটি। হাসি কিছুটা থামিয়ে আবার বলল, কোনটা লাগবে যা-ই লাগব, আনিয়া দিমু।’

অর্থাৎ কাগজে মোড়ানো প্যাকেটে গাঁজা বিক্রি হয়। গাঁজার ছোট প্যাকেট ৫০ টাকা, বড় প্যাকেট ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। এই এলাকায় ‘গুটি’ পাওয়া যায়। ‘গুটি’ মানে ইয়াবা। ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় একটি ‘গুটি’। জিজ্ঞেস করতেই সশব্দে হেসে নাম বলল কিশোর। এই ছেলেটির মতো ৪ থেকে ৫ জন কিশোর তেররতনসহ আশেপাশের এলাকায় এই ‘গুটি’ আর ‘গাজা বিক্রি করে।সাথে তাদের আরেক ব্যবসা রয়েছে দাদন ব্যবসা মানে সুদে টাকা লাগানো। জানা যায় এ ধরনের কাজে তাদের পরিবারের উৎসাহ-সমর্থন রয়েছে। জানা গেছে, একজন কিশোরের নাম তানভীর আহমদ, ও ওপর কিশোরের নাম সামিদ আহমদ ওরফে পেটলা সামিদ ,যদিও তাদের নুন আনতে পানতা খুড়াতো সেই সামিদ ও তানভীরের রয়েছে পৃথক পৃথক মোটরসাইকেল।-ইয়াবা বিক্রি করে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা আয় করে থাকে এই কিশোররা। এসব কিশোরের প্রতি রয়েছে এলাকার ‘মুরব্বিদেরও আদর ও ভালোবাসা’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেররতন কলোনির এক যুবক বলেন, ‘কিশোরদের ভালোবাসা তো থাকবোই। এই মুরব্বিরাই তো গাঁজা-ইয়াবার ব্যবসার ভাগ নিয়ে থাকেন।’

তেররতন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের নাম জানতে চাইলে ওই যুবক বলেন, তানভীর আহমদ , ও সামিদ আহমদ তেররতন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। সাথে তাদের সুদে টাকা লাগানো ব্যবসা, তবে তাদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে সহযোগীও কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন।

তাছাড়া গাজা ও ইয়াবার হটস্পট হিসেবে পরিচিত সিলেট শহরের তেররতন এলাকার আখরা গলি এলাকা। এখানে ইয়াবা ও গাজা ব্যবসায়ী কিশোর তানভীর ও তার সদস্যরা তেররতন এলাকায় নানা কৌশল প্রয়োগ করে চালাচ্ছে মাদকের ব্যবসা।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শাহপরান রহঃ থানা পুলিশের শিথিল মনোভাবের কারণে এলাকাটিতে প্রকাশ্যে ও অবাধে চলছে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি।সম্প্রতি তেররতন বাজার এলাকার বিতরে আখরা গলি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গাজা ও ইয়াবা বিক্রির জন্য ক্রেতাদের অপেক্ষা করছেন তানভীর ও তার লোকজন। আর রিকশাচালক থেকে দিনমজুর মাদকসেবিরা কাছে কিনছেন গাজা ও ইয়াবা। আখরা গলি যেন জমে উঠা একটি মাদকের হাট-বাজার।সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আখরা গলি,বিলেরপার, এইচ ব্লকের ১,২,৩, নং রোডের শেষ মাথায় তানভীরের নিয়জিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা গোপনে অবৈধ গাজা ও ইয়াবা বিক্রি করে আসছে।

তাদের সুদের খপ্পরে পড়ে অনেক সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সর্বস্বান্ত হলেও বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। আর দীর্ঘদিন ধরে এই দাদন ব্যবসা চলতে থাকায় বিষয়টি যেন সবার গা সওয়া হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো গুরুত্ব না দেওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে দাদন ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসায়ী তানভীরের দৌরাত্ম্য।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ